চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের অনিরাপদ গর্তে পড়ে মুহাম্মদ মেজবাহ (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটি স্থানীয় দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলতে খেলতে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০-৪০ ফুট দূরে থাকা একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় মেজবাহ। গর্তটি প্রায় ১২ ফুট গভীর ছিল। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা গর্তের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায় এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিস প্রথমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনও সহায়তা করে। দীর্ঘ চেষ্টা ও খননযন্ত্র ব্যবহারের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে সে প্রাণ হারায়।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।”
শিশুটির বাবা সাইফুল আলম জানান, তিনি কাজ থেকে ফিরে সন্তানের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নলকূপের গর্তে পড়ার বিষয়টি জানতে পারেন। সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে বসতঘরের কাছে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও গর্তটি নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা হয়নি। টিলাভূমি এলাকায় পানির জন্য গভীর গর্ত করা হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, পুলিশ উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছে। তবে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অনিরাপদ নলকূপ ও গভীর গর্ত দ্রুত নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে