সর্বশেষ

জাতীয়নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
আবারও কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান
হাইকোর্টে মানবিক বিবেচনায় জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন
সারাদেশআজ সাতক্ষীরায় সমাবেশে যাচ্ছেন জামায়াত আমির, লক্ষাধিক সমাগমের প্রস্তুতি
গোপালগঞ্জে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে কামরুজ্জামান বহিষ্কার
আন্তর্জাতিকভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, প্রাণহানির আশঙ্কা অন্তত ৫০
মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহারের দাবি ট্রাম্পের
খেলাঅনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা জয়ের খোঁজে ব্যর্থ বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার
ইয়ামালের দুর্দান্ত গোল, আবার শীর্ষে বার্সা
জাতীয়

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা, চাপে বিদ্যুৎ খাত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশের বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতি ইউনিট খরচ বেড়ে গেছে প্রায় ৮ শতাংশ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তুলনামূলক সস্তা জ্বালানির ব্যবহার কমেছে। এর বদলে তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে, যা ব্যয়বহুল। পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই বিদ্যুৎ কিনতে হয় পিডিবিকে। উৎপাদন হোক বা না হোক, প্রতিটি কেন্দ্রকে নির্ধারিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়, যা কেন্দ্রভাড়া হিসেবে পরিচিত।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট এবং সে বছর কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৯৮ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্রভাড়া বেড়ে হয় ৩২ হাজার কোটি টাকা। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় সক্ষমতা কিছুটা কমে ২৭ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াটে নেমে আসে, তবুও কেন্দ্রভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ভারত থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে, যার বিল ডলারে পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদেশি ঋণ রয়েছে, সেগুলোর কিস্তিও ডলারে পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত এক বছরে ডলারের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় পিডিবির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১০৯ টাকা, যা অর্থবছরের শেষ দিকে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ টাকায়। পরবর্তী অর্থবছরে শুরুতেই ডলারের দাম ছিল ১১৮ টাকা, যা বছর শেষে বেড়ে হয় ১২২ টাকা।

বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৫টি, যার মধ্যে ৬৮টি বেসরকারি মালিকানাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল টাকায় পরিশোধ করা হলেও হিসাব করা হয় ডলারে। সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও পুরো বিল ডলারে নির্ধারণ করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানান, গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং এড়াতে আগের বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় তেল ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, ফলে খরচও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দেড় দশকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। একটি সরকারি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বা অলস সক্ষমতা রয়েছে। এই অলস সক্ষমতার জন্য বছরে ৯০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার সমপরিমাণ কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে।

কমিটি আরও জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে চুক্তির কারণে কেন্দ্রভাড়া ক্রমাগত বাড়ছে। সাধারণত ১২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও চুক্তির শর্তের কারণে ১৩ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত উচ্চ হারে ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন করে দর–কষাকষি এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছে কমিটি।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ছিল ১১ টাকা ৫৪ পয়সা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তা সামান্য কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৪৪ পয়সায়। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৩৪ পয়সায়।

অন্যদিকে পিডিবি গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতিবছর সংস্থাটির লোকসান বাড়ছে এবং সরকারকে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে চুক্তি কাঠামো ও অতিরিক্ত কেন্দ্রভাড়াই আর্থিক সংকটের প্রধান কারণ। দ্রুত চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও ব্যয় কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

 

১৭৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন