সর্বশেষ

জাতীয়সাকিবকে দলে বিবেচনার নাটকীয় সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকবে: তারেক রহমান
গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: প্রণয় ভার্মা
সারাদেশনারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কার্যালয়ে ভাঙচুর-গুলিবর্ষণ
আন্তর্জাতিকপ্রশান্ত মহাসাগরে ফের মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ২
খেলাআইসিসি বিশ্বকাপ থেকে সরালো বাংলাদেশকে, স্কটল্যান্ড পেল সুযোগ
জাতীয়

গ্যাস ও এলপিজির সংকটে চরম ভোগান্তি, চুলা জ্বালাতে হিমশিম

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:১১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক এলাকায় দিনের পর দিন রান্নার চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না।

বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ছুটছেন। তবে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫৫০ টাকায়, যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩০৬ টাকা।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা জামাল চিশতী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাসে এক হাজার ৮০ টাকা গ্যাস বিল দিয়ে আবার আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি কিনতে হচ্ছে। এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।” একই এলাকার গৃহিণী সাজিয়া আক্তার জানান, তাঁদের সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়।

গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার বিদ্যুৎ–চালিত চুলা ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এতে রান্নার সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি বিদ্যুৎ–চালিত চুলার দামও বেড়েছে বাজারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই গ্যাস সংকটজনিত ভোগান্তির কথা তুলে ধরছেন ভুক্তভোগীরা।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, তাদের দৈনিক চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৪৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাটতি আরও বেড়েছে, ফলে ঢাকার বহু এলাকায় চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, অথচ সরবরাহ হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ আসে একটি বড় অংশ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় সাময়িকভাবে সরবরাহ কমে যায়। যদিও শনিবার রাত থেকে ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশে বর্তমানে এক কোটির বেশি এলপিজি গ্রাহক রয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ১২টি এলপিজি কোম্পানি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়তি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকেও বাজারে এর সুফল দেখা যায়নি।

এলপিজি আমদানিকারকদের দাবি, শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন জাহাজের সংকটও সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে আজ রোববার থেকে ধীরে ধীরে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে। তবে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন