সর্বশেষ

জাতীয়১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য ‘বেঞ্চমার্ক’ হবে:  প্রধান উপদেষ্টা
বিএনপিই পারে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে: মির্জা ফখরুল
সারাদেশ'হ্যাঁ' ভোট দিলে দেশে অবৈধ ও অন্যায় প্রথা আর ফিরবে না : প্রেস সচিব
যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন, তত তাড়াতাড়ি জনগণের প্রার্থী নির্বাচিত : রুহুল কুদ্দুস
দেবিদ্বারে গণসংযোগে হাসনাত, শাপলাকলিতে ভোটের আহ্বান
কুমারখালীতে বালুঘাটের আধিপত্য নিয়ে যুবক গুলিবিদ্ধ, ৩ জন আটক
জামালপুরে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে দেড় বছর আগে মারা যাওয়া শিক্ষকের নাম
কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনার খসড়া বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
পঞ্চগড়ে ‘পাইয়োনিয়ার্স’ রিলস প্রতিযোগিতা, আইফোন জিতলেন দুই তরুণ
রাঙ্গামাটিতে চাল বোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নারী নিহত
কলাপাড়ায় বরযাত্রীর মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত
মাগুরায় কবি আমীর হামজার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত
আন্তর্জাতিকসাউথ সুলাওয়েসিতে নজরদারি বিমান বিধ্বস্ত, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার্র
করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৬৭
খেলাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, অনড় অবস্থানে আইসিসি
জাতীয়

মিলন আর স্মৃতির বন্ধনে জিন্দা পার্কে কুষ্টিয়াবাসীর উৎসব

রনজক রিজভী
রনজক রিজভী

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রিয় জেলা কুষ্টিয়ার মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিল রাজধানীর অদূরের জিন্দা পার্ক। সভাপতি শেখ সাদীর সুযোগ্য নেতৃত্বে সুসংগঠিত ও গতিশীল কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা-২০২৬। আনন্দ, আবেগ আর ভ্রাতৃত্ববোধে ভরপুর এই আয়োজন ঢাকায় বসবাসরত কুষ্টিয়াবাসীদের জন্য হয়ে উঠেছিল একদিনের আপন ঠিকানা।

সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা দেন সমিতির সদস্য ও অতিথিরা। হাসি-আড্ডা আর স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে তারা পৌঁছান জিন্দা পার্কে। সেখানে সকালের নাস্তা দিয়ে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলতে থাকে মিলনমেলার নানা আয়োজন। দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা, সবার জন্য উপহার সামগ্রী ও র‍্যাফেল ড্র-সব মিলিয়ে ছিল পরিপূর্ণ উৎসবের আবহ।

এই আয়োজনে বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাবু সনজিৎ কুমার বিশ্বাস এবং সদস্য সচিব ছিলেন কৃষিবিদ আইয়ুব হোসেন খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার সাবেক সভাপতি মোঃ আকতার-উজ-জামান। পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন সমিতির মহাসচিব মোহাঃ আবুল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র সভাপতি, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ সাদী। তিনি বক্তব্য শুরু করেন এভাবে- এই বনভোজনের জন্য আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। একটা কথা আছে- পুরান চালে ভাতে বাড়ে। Old is gold। অর্থাৎ এই আয়োজনের আহ্বায়ক বাবু সনজিৎ কুমার বিশ্বাস এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ আইয়ুব হোসেন খান। আপনারা সবাই এই দুইজনসহ ১১টি উপকমিটির সবার জন্য করতালি দিয়ে সাধুবাদ জানান।

কুষ্টিয়া জেলা সমিতির কয়েকটি নিয়মিত অনুষ্ঠান হয়- বনভোজন, ইফতার ও এজিএম। আমরা যখন এই অনুষ্ঠানগুলো করি, তখন যেখানে করি, সেখানে একখণ্ড কুষ্টিয়া হয়ে যায়। আজ এখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত, যাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়া। এটা আমাদের অনেক বড় পাওয়া, চাওয়া এবং ভাগ্য।

শেখ সাদী বলেন, কুষ্টিয়া এখান থেকে অনেক দূর। জীবিকার সন্ধানে হোক, কর্মের সন্ধানে হোক বা বসবাসের কারণেই হোক- আমরা এখানে বসবাস করি। আজ থেকে অনেক বছর আগে কুষ্টিয়ার কিছু বিখ্যাত মানুষ কুষ্টিয়ার মানুষদের একসঙ্গে রাখার জন্য এই কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা গড়ে তুলেছিলেন। প্রায় ৩০ বছর আগে এর যাত্রা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আজকে এই সমিতি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। একসময় আমরা থাকব না। কিন্তু আমরা যেহেতু কুষ্টিয়াবাসী, আমরা কোনো না কোনোভাবে একে অপরের আত্মীয়, একে অপরের খুব আপনজন। এ কারণেই আমরা যারা সমিতির সঙ্গে আছি- আসুন, আমরা সবাই সবার সুখে-দুঃখে একসঙ্গে থাকি।

তিনি আরো বলেন, আজকে এই সমিতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। আমি আমার জীবনে অনেকগুলো বিয়ে এই সমিতির কারণে দিতে পেরেছি। কারণ আমাদের যাদের বাড়ি কুষ্টিয়া, অনেক ছেলে-মেয়ের বাবা-মা বলেন- আমি আমার ছেলেটার বিয়ে কুষ্টিয়ার ছেলে দেখে দেব। আবার অনেক ছেলের বাবারা বলেন- কুষ্টিয়ার মেয়ের সঙ্গে ছেলে বিয়ে দেবেন।

দেখেন, আজ আমরা এখানে একত্র হয়েছি। এভাবে কুষ্টিয়াবাসীরা যখন এক জায়গায় হই, তখন অনেক ভালো কাজ মিলনমেলার মাধ্যমেই সম্ভব হয়। আজ এখানে যারা উপস্থিত, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আজকে সরকারের সচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখানে আছেন, যাদের বাড়ি কুষ্টিয়া। আমাদের কুষ্টিয়ার অনেক মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানা সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

শেখ সাদী বলেন, আপনি একজন মানুষ, আপনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি, আপনি অনেক ডিগ্রিধারী হতে পারেন। কিন্তু ডিগ্রি সুখ দিতে পারে না। যখন একজন মানুষ আপনাকে সম্মান করে, তখনই আপনি প্রকৃত সম্মানিত হন। সে কারণেই আমরা আশা করবো- আমরা যারা কুষ্টিয়ার ভালো-মন্দ যেখানেই আছি, যে অবস্থাতেই আছি, সবাই যেন এক থাকি। একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পাশাপাশি কেউ যদি অসুবিধার মধ্যে থাকে, আমরা যেন তার পাশে ছুটে যাই। আর আমরা যারা ভালো অবস্থানে আছি, তারা যেন অন্যদের যথাযথভাবে সহযোগিতা করতে পারি এবং পাশে থাকতে পারি- এটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে এই পিকনিক করতে পার পারসন খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু আমরা নিয়েছি মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি টাকা আমরাই বহন করেছি। আমাদের বিআরবি, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যক্তি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এবং বিগত দিনেও করেছেন। এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান, একটি সামাজিক সংগঠন। আমরা যারা এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছি বা এর সঙ্গে আছি, আমরা কোনো প্রফিটের জন্য এখানে নেই। আমরা আছি একজনকে সহযোগিতা করা এবং আরেকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া- এই উদ্দেশ্য নিয়ে।

শেখ সাদী আরো বলেন, আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ- কুষ্টিয়া জেলা সমিতি মানে আপনার-আমার একটি পরিবার। এই পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, এই পরিবারকে সম্মান করতে হবে। আপনারা যদি বেশি বেশি কুষ্টিয়া জেলা সমিতির এই ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে এই সমিতির মান, সার্ভিস ও ভবিষ্যৎ আরও উন্নত হবে।

শেখ সাদী বলেন, পরিশেষে আবারও আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ কমিটি যত সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করুক না কেন, আপনারা যদি উপস্থিত না হতেন, তাহলে এটি সুন্দর হতো না। সব ক্ষেত্রে যেন আমাদের উপস্থিতির কোনো কমতি না থাকে- এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন। এই বনভোজন সফল করতে যারা বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, পিকনিক স্পটের মালিকসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সব উপকমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দিনের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। কুষ্টিয়ার খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনায় গান আর সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। শিল্পীদের কণ্ঠে ভেসে আসে মাটির টান, স্মৃতির গান- যা উপস্থিত সবাইকে ফিরিয়ে নেয় শেকড়ের কাছে।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও জেলার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সফল, সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত এই মিলনমেলার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা আবারও প্রমাণ করলো- ঐক্য আর নেতৃত্ব থাকলে সংগঠন এগিয়ে চলে দুর্বার গতিতে।

১৮৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন