জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ’র সদর দপ্তর ধ্বংস ইসরাইল
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জেরুজালেমে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির (ইউএনআরডব্লিউএ) সদর দপ্তর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরের কালান্দিয়ায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার এসব ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ধ্যার দিকে বুলডোজারসহ ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এ সময় সেখানে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনআরডব্লিউএ’র বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছে। যদিও জাতিসংঘ বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি মূলত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো সংস্থার ওপর এ ধরনের হামলা আগে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি আঘাত এবং ভবিষ্যতে অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের জন্যও হুমকির বার্তা বহন করে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলকে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব স্থাপনা জাতিসংঘের সম্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সুরক্ষিত।
ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জনাথান ফ্লোয়ার জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ইসরাইলি বাহিনী সদর দপ্তরে প্রবেশ করে কর্মীদের বের করে দেয় এবং পরে বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু করে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নিরপেক্ষ মানবিক কার্যক্রমের ওপর একটি অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ।
অন্যদিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রণীত একটি আইনের আওতায় তারা ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো নিজেদের কর্তৃত্বাধীন বলে দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটির কিছু কর্মী সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তবে জাতিসংঘ এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়ে আসছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে