প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বিরুদ্ধে আনা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের একটি ঘটনার উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি কথার মাধ্যমে তা বোঝাতে চেয়েছিলাম। অথচ সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'একটি অভিযোগের জন্য তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করব?'
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শোকসভার নামে নিয়মিত সমাবেশ, মাইক ব্যবহার, এমনকি গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হলেও প্রশাসন নীরব রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হলেও কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা জানান, সোমবার সকালে তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাকে জানানো হয়নি।
এদিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে রুমিন ফারহানাকে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাননি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি দেখেছেন। নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী লিখিত জবাব দেবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ইসলামাবাদ গ্রামে পেন্ডেল করে বড় ধরনের জনসমাবেশ আয়োজন করা হয়, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করেন, ফলে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধি উপেক্ষা করে ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বড় স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয় এবং জনসভা বন্ধের নির্দেশ মানা হয়নি।
এর আগে রবিবার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছে এক মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, 'আমি আশা করি প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে বিশেষ সুবিধা দিলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। ৫ আগস্টের ঘটনা মনে রাখলে নিরপেক্ষতার গুরুত্ব বুঝতে সহজ হবে।'
১১৭ বার পড়া হয়েছে