এমপিওভুক্তি ও নিয়োগ-পদোন্নতিতে অস্বাভাবিক তৎপরতা
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তৎপরতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার থেকে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণত দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শন শেষে এমপিওভুক্তির কাজ সম্পন্ন হতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগে। সেখানে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শীর্ষ পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এর শীর্ষ পদগুলো বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি মাউশিতে দুজন পরিচালক এবং এনসিটিবিতে দুজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন, গত ১১ ডিসেম্বর রাতে একযোগে ৫২৫ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন করা হয়। একই দিনে আরও ২ হাজার ৭০৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এত বড় পরিসরে একদিনে বদলি-পদোন্নতির ঘটনা শিক্ষা প্রশাসনে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. একেএম তাজকির-উজ-জামান বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন এবং এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, জমির দলিল, শিক্ষক-কর্মচারীদের সনদ, টিডিসি রিপোর্টসহ নানা নথি অনলাইনে জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে এমপিওভুক্তি কার্যকর হয়। তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে জড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, এমপিওভুক্তি একটি দীর্ঘ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব সংস্কার ও নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকা, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়।
শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১৭ বার পড়া হয়েছে