সর্বশেষ

জাতীয়ব্যাংক একীভূত চলবে, খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের
জনগণের ম্যান্ডেটকে আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়: নাহিদ ইসলাম এমপি
মাদক, মাটি কাটা ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে হাসনাত
ঈদযাত্রায় সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে তীব্র যানজটের শঙ্কা
সারাদেশহোলি উৎসবে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে
বরগুনায় শ্রীকৃষ্ণের দোল উৎসবে রঙের উচ্ছ্বাস
মাগুরায় দোল পূর্ণিমায় রঙের উৎসব, ভক্তদের ঢল
আন্তর্জাতিকইরানের পাল্টা হামলায় সৌদি আরব ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু
সৌদি আরবে হামলা আসন্ন, মার্কিন কনস্যুলেটে কেউ আসবেন না: মার্কিন দূতাবাস
খেলাসালমানদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানাকে ‘সংকীর্ণ মানসিকতা’ বললেন আফ্রিদি
ফিচার

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা ঘিরে নতুন সংকট: শুল্ক হুমকি ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আবারও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আজ সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, “যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে সহযোগিতা করবে না, তাদের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।” তিনি বলেন, এই উদ্যোগ “জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ।”

বর্তমানে কোপেনহেগেনে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল, যেখানে শাসক ও বিরোধী উভয় দলের সদস্য রয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করা। কিন্তু ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান সেই প্রচেষ্টা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, “গ্রিনল্যান্ড কোনো মালপত্র নয়; এটি তার জনগণের। আমরা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করব না।” অপরদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য স্বশাসন ও পূর্ণ স্বাধীনতা, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অধীনতা নয়।”

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। ১৮৬৭ সালে আলাস্কা কেনার পর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেন, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪০-এর দশকে, দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যায়; যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ত্যুলে বিমানঘাঁটিসহ (বর্তমান পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটি) একাধিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।

১৯৪৬ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান গোপনে ডেনমার্ককে একশ মিলিয়ন ডলারের সোনার বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেন, কিন্তু ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ১৯৫১ সালের নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির অধিকার লাভ করে। ঠান্ডা যুদ্ধকালেও (১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত) পেন্টাগন গ্রিনল্যান্ডে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যদিও আর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তোলা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন ও ফ্রান্স অতিরিক্ত সৈন্য ও সরঞ্জাম প্রেরণ করেছে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, “যদি কোনো জোটভুক্ত দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা হয়, তবে আটলান্টিক জোটের ভিত্তি নড়বড়ে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের পরিকল্পনা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত যাচাইয়ে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ নাগরিক এই উদ্যোগের পক্ষে। কংগ্রেসে “গ্রিনল্যান্ডকে মহান করো” নামে একটি প্রস্তাব আলোচনাধীন, তবে এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সর্ববৃহৎ দ্বীপ—বিরল খনিজে সমৃদ্ধ এবং উত্তর মেরু অঞ্চলের সামরিক ও বাণিজ্যিক পথের কেন্দ্রে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ খুলে যাওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

আগামী দু’দিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের নতুন ঘোষণা, ইউরোপীয় যৌথ প্রতিক্রিয়া এবং ডেনমার্কের সম্ভাব্য জাতিসংঘ আবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরবর্তী সংকেত দিতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে আর্কটিক মহাসাগরের তীরে, যেখানে ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্ত করছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক

২৫৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন