প্রতিক বরাদ্দের আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সারজিস আলমের বিরুদ্ধে
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিক বরাদ্দের আগে আচরণবিধি না মেনে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও নির্বাচনী সূত্রে জানা যায়, সারজিস আলম প্রতিদিনই ফেসবুকে ভোট প্রার্থনার ভিডিও প্রকাশ করছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংসদীয় এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রচারণা করছেন। তিনি প্রায় ছয়টি ভিন্ন ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিনা বাধায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকরা অভিযোগ করেন, এতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার হচ্ছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রতিদিন সকালে সারজিস আলম মাইক্রোবাসের মাধ্যমে এনসিপির নেতাদের নিয়ে মিটিং, পথসভা এবং গ্রামের লোকজনকে জড়ো করে ভোট প্রার্থনা করছেন। সেই সঙ্গে এই সব কার্যক্রমের ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আচরণবিধিতে প্রতিক বরাদ্দের আগে এমন পথসভা করার কোনো অনুমতি নেই।
বিশেষত, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি কার্যকর হলেও বাস্তবে প্রার্থীরা এটি মানছেন কি না-সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি দেখা যায়নি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে কোনো ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তবে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তফসিল ঘোষণার পরও তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা বলেন, সারজিস আলম নিষিদ্ধ সময়সীমাকে উপেক্ষা করছেন এবং আচরণবিধির ৪ নম্বর বিধানও মানছেন না।
এ বিষয়টি শুধু মাঠের কার্যক্রমেই সীমিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সারজিস আলম তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফেসবুক পেজসহ ছয়টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে কন্টেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছেন। এতে আচরণবিধির ২৫ নম্বর বিধি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের চোখের সামনে দিনের আলোয় আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে মানুষের অধিকার ও ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নীরব থাকার কারণে এই নির্বাচনের আচরণবিধি কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনজুরুল হাসান বিষয়টি নিয়ে বলেন, 'প্রতিক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা, দলবেঁধে ভোট প্রার্থনা, পথসভা, মিছিল ও মিটিং করার কোনো সুযোগ নেই। এটি স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা সমর্থক লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামানের সাথে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদ ও সংস্থার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও যদি অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আচরণবিধি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪২ বার পড়া হয়েছে