রংপুরে মদপানে মৃত্যু বেড়ে ৭, কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করার ঘটনায় গত তিন দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত জনে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রংপুরের শ্যামপুরে অ্যালকোহল পান করে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে নতুন করে দুইজন মারা যান। নিহতরা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। এর আগে বুধবার সকালে ওই ঘটনায় রেক্টিফাইড স্পিরিট বিক্রেতা জয়নাল আবেদীনও মারা যান।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জের শ্যামপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন বন্দি হিসেবে কারাগারে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ১১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। ওই ঘটনায় স্থানেই মারা যান বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া ও সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। এ ছাড়াও একই ধরনের অপর একটি ঘটনায় আরও একজন হাসপাতালে মারা যান।
রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে অ্যালকোহল পান করে সদর কোতোয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০) অসুস্থ হন। পরদিন দুপুরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
ওসি জানান, মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা মদ কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “সারাদেশে এসব ঘটনা ঘটছে। কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবারও ব্যবসা শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে মদ ব্যবসায়ীদের কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষ ও পরিবার নিরাপদ থাকবে না।”
১৩১ বার পড়া হয়েছে