বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, সতর্কবার্তা আইকিউএয়ারের
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্বের দূষিত নগরীর তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স–একিউআই) ছিল ২৭১, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এ সময় ভারতের দিল্লি ও পাকিস্তানের করাচিকে অনেক ব্যবধানে ছাড়িয়ে যায় ঢাকা।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। তাদের তাৎক্ষণিক সূচক অনুযায়ী, একই সময়ে করাচির একিউআই ছিল ২১৮ এবং দিল্লির ২০৩। অর্থাৎ এই দুই নগরীর তুলনায় ঢাকার বাতাসের মান ছিল অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। নগরীর অন্তত নয়টি স্থানে বায়ুমান ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ের কাছাকাছি বা তারও বেশি। নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকায় একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ৪১৬, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ছাড়া ধানমন্ডি (৩২৬), দক্ষিণ পল্লবী (২৮৯), ইস্টার্ন হাউজিং (২৮৮), বেচারাম দেউড়ী (২৮০), কল্যাণপুর (২৭৮), বে’জ এজওয়াটার (২৬৭), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৪৬) ও গোড়ান (২৩৭) এলাকাতেও বায়ুর মান খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
চলতি শুকনো মৌসুমে দিল্লি, লাহোর ও করাচি নিয়মিতভাবে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত নগরীর তালিকায় থাকলেও ডিসেম্বর মাস থেকে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার নাম উঠে আসছে এই তালিকায়। জানুয়ারি মাসেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতির লক্ষণ নেই; বরং দূষণ দিন দিন বাড়ছে।
বায়ুমান সূচক ২০০-এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ ছাড়ালে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়। বর্তমানে ঢাকার বায়ু সেই বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরের অনেক এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
এদিকে দেশে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর তেমন কোনো কার্যকর ফল দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ উদ্যোগ ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও পরিস্থিতির অবনতি থামানো যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শ অনুযায়ী, আজ বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা জায়গায় ব্যায়াম বা দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরের বাতাস সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে