নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, বিশ্বে তীব্র আলোচনা
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্ব রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি করে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা আসে, যা লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এই সংকটের সূচনা ঘটে গত ৩ জানুয়ারি, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা দুজনই মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতেই থাকবে এবং সরকার সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা নেবে। তবে ‘উপযুক্ত সময়ে’ তেলের মালিকানা ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে এবং দেশটির সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দেয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্পের ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রদ্রিগেজ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—দুজনই নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাবি করায় দেশটি গভীর প্রশাসনিক ও সার্বভৌম সংকটে পড়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
১১৪ বার পড়া হয়েছে