ত্রিমূখি লড়াই: শিবচর (মাদারীপুর-১) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তি
রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মধ্যে ত্রিমূখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মনোনয়ন বঞ্চিত দুই নেতা। স্থানীয় পর্যায়ে দাবি করা হচ্ছে, তারা বিএনপির নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইছেন।
শিবচর উপজেলা কেন্দ্র করে গঠিত মাদারীপুর-১ আসনে প্রথমে বিএনপি কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দেয়। তবে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও নাদিরা আক্তারের সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় তারা ভাঙ্গা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ করে দেয় এবং কামাল জামান মোল্লার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা কামাল জামান মোল্লার বিরুদ্ধে প্রচারণাও শুরু করেন।
স্থানীয় এক মন্দির অনুষ্ঠানে কামাল জামান মোল্লার বক্তব্যের শেষাংশে “জয় বাংলা” বলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিএনপির হাইকমান্ড তার মনোনয়ন স্থগিত করেন। পরে বিএনপি নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেয়।
নাদিরা আক্তার মনোনয়ন পাওয়ার পর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা শুরু করেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বিএনপি থেকে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সময়ে কামাল জামান মোল্লা এবং সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই কারণে শিবচরের তিনজন শক্তিশালী নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ফলে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
নাদিরা আক্তার বলেন, “আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা দলের ক্রান্তিকালে একসাথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের যাকে মনোনয়ন দেয় আমরা সবাই তার পক্ষে ভোট যুদ্ধে নামবো। দল প্রথমে কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিলেও পরে আমাকে মনোনয়ন দেয়। আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রাণ। আমার শশুর শামসুল হুদা চৌধুরী শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আমার স্বামী শিবচর বিএনপির তিনবার সভাপতি ছিলেন। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি সক্রিয়ভাবে দলের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করি। আমার পারিবারিক ধারাবাহিকতা এবং দলের প্রতি ন্যায়বিচারের কারণে মনোনয়ন পেয়েছি। আমি সবাইকে আহ্বান করি বিভক্ত না হয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা বলেন, “আমি দলের ত্যাগী নেতা। এলাকায় আমি জনপ্রিয়। মনোনয়ন স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও আশা করি আগামী ২০ তারিখের মধ্যে আমাকে আবার মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি বিএনপিতে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। দলের জন্য কাজ করেছি, জেল খাটেছি, অত্যাচার সহ্য করেছি। যদি মনোনয়ন না পাওয়া যায় তবুও স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিএনপিকেই সমর্পণ করবো।”
অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, “আমার বয়স এখন ৭০ বছর। আমার জীবন বিএনপির জন্য উৎসর্গিত। দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি, বয়স ও অবদান বিবেচনায় নিলে ভালো হতো। এবার ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। শিবচরের জনগণ আমাকে ভালোবাসে। আমি বাকি জীবন জনগণের জন্য কাজ করব।”
শিবচর (মাদারীপুর-১) আসনে এই ত্রিমূখি লড়াইয়ে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে