কয়েকদিন ধরে কুড়িগ্রামে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে কয়েকদিন ধরে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সূর্যের দেখা না মেলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও জেলেরা। রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, “শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারি না। কাজ না থাকায় সংসারের অভাব দূর হচ্ছে না।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের জেলে বাবু মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে। তিনি বলেন, “শীতে পানিতে নামা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। মাছ ধরতে না পারলে সংসার চালানো দায়।”
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগার চরের বাসিন্দা মো. মিন্টু মিয়া বলেন, “তীব্র ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে।” একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, “কাজে না গেলে পেটে ভাত জোটে না। আবার কাজে গেলে হাত-পা জ্বালাপোড়া করে, ঠিকমতো কাজ করা যায় না।”
শীতের প্রভাবে বেড়েছে রোগব্যাধিও। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তার ছেলের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কিছু রোগীকে ভর্তি করেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
শীত মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য ৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে।
২০৬ বার পড়া হয়েছে