সাতক্ষীরায় হাড় কাঁপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন
শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমবেশি হতে পারে।
কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কেউ মাঠে কৃষিকাজ করছেন, কেউ ভ্যান কিংবা রিকশা চালিয়ে আয়-রোজগারে বের হচ্ছেন। গরম কাপড়ের অভাবে ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেকেই লতাপাতা ও খড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। মাঝে মাঝে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগের সংখ্যাও বাড়ছে। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী রিপন জানান, শুক্রবার সকালে বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সেদিনও আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। সোমবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামছুর রহমান শীতের এ সময়ে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুদের গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে, ভোরে বাইরে বের করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। ঠান্ডা লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই ধরনের সতর্কতা বয়স্কদের ক্ষেত্রেও মানার পরামর্শ দেন তিনি।
১৫০ বার পড়া হয়েছে