দৌলতপুরসহ সারাদেশে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ, বিপর্যস্ত ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা
বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে বড় কয়েকটি কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ দেশের নানা অঞ্চলে এলপিজি ফিলিং স্টেশন ও সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। উপজেলার দুটি প্রধান এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গত সোমবার থেকে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে যানবাহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
এলপিজি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'বাজারে কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, 'বাধ্য হয়ে আবার মাটির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।'
সংকটে পড়েছেন এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিক ও ডিলাররাও। আল্লার দরগা এলাকায় অবস্থিত এএমএম এলপিজি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরিফ হোসেন জানান, 'গত সোমবার থেকে আমাদের পাম্পে গ্যাস আসছে না। কোম্পানি জানিয়েছে, বন্দরে জাহাজ না আসায় তারা সরবরাহ দিতে পারছে না।' তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি লিটার এলপিজি ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দৌলতপুরের সিতলাইপাড়া এলাকার মামা-ভাগনে এলপিজি ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরাও। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শহর ও গ্রামাঞ্চলে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে অনেক খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সংকটের প্রভাবে অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি না থাকলেও দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ হ্রাসের পেছনে কী কারণ, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না। অনেকের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, 'এলপিজি সংকট শুধু দৌলতপুরে নয়, সারা দেশেই দেখা যাচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে দ্রুত এই সংকট নিরসন করা যায়।'
১৭৫ বার পড়া হয়েছে