মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত কেউই লাভবান হয়নি: অর্থ উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারত কোনো দেশেরই উপকার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির সূচনা বাংলাদেশ থেকে হয়নি এবং পুরো ঘটনাই দুঃখজনক।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার ঘটনায় সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই দিনের ক্রয় কমিটির বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সবসময় বাস্তবতা ও যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনার কারণে অর্থনীতি বা সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এটি কেবল অর্থ-বাণিজ্যের নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়-এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে এমন ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, এই ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ করেনি—এটি সবাইকে মেনে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা অনেক সময় একটি দেশের জন্য কূটনৈতিক দূত হিসেবে কাজ করে। মুস্তাফিজুর রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ খেলোয়াড়, যাকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই দলে নেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এর পরের ঘটনাগুলোও অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। সব মিলিয়ে বিষয়টি দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খেলাধুলার সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষই বিবেচনার সঙ্গে বিষয়টি সমাধান করবে এবং সরকার চায় না রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই সম্পর্কের অবনতি হোক।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভক্ত করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি বাস্তবায়নের আশা করছেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে বলেও জানান তিনি।
৭৫০ বার পড়া হয়েছে