দৌলতপুরে কনকনে শীত, দুর্ভোগে শ্রমজীবী মানুষ
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ক্রমশ কমতে থাকা তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষদের। পাশাপাশি শীতের প্রভাব পড়েছে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যেও।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন।
কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, “কুষ্টিয়ায় কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা কম রয়েছে। এই শীতের পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।”
তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে ভোরের দিকে কাজে বের হতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী মানুষ। ফলে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে।
শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি কম্বল অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় শীতবস্ত্রের পরিমাণ এখনও কম। শীতের তীব্রতা বিবেচনায় বিতরণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হলে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
জয়রামপুর বাজারের দিনমজুর আশিক উদ্দিন বলেন, “আমরা প্রতিদিন সবজি আর কাঁচামালের বস্তা ওঠানামার কাজ করি। এই ঠান্ডায় কাজে খুব সমস্যা হচ্ছে।”
অটোরিকশাচালক মারুফ ইসলাম জানান, “সকালে মহিষকুন্ডি থেকে দরগায় যাত্রী নিয়ে গিয়েছিলাম। এত ঠান্ডা যে শরীর অবশ হয়ে আসছিল।”
এদিকে ঘন কুয়াশা না থাকলেও তীব্র শীতের কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাত ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেচাকেনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, শীতের কারণে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।”
২৩৮ বার পড়া হয়েছে