মাদুরোর দেহরক্ষী হত্যার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার তীব্র নিন্দা
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং তার দেহরক্ষীদের ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় একটি আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কের একটি বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেছে কারাকাস। রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো জানান, অভিযানের সময় প্রেসিডেন্টের একাধিক দেহরক্ষীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় ভেনেজুয়েলার কয়েকজন সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন এখন থেকে ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। এ ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ স্থাপন করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার আদালতের নির্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি মাদুরোকেই দেশের ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কের বন্দিশিবিরে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ‘মাদক পাচার’ সংক্রান্ত অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে