রাজশাহী সুগার মিলের আখ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে যাওয়ার অভিযোগ
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী সুগার মিল এলাকার আখ পাশের নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুটি মিল একসঙ্গে চালু না হওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে নিজ এলাকার বাইরে আখ বিক্রি করছেন। এতে রাজশাহী সুগার মিল আখ সংকটে পড়লেও কৃষকদের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
রাজশাহী সুগার মিলের ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র বাঘা উপজেলার সুলতানপুর ও গড়গড়ি এলাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ক্রয়কেন্দ্র রয়েছে নাটোরের দুড়দুড়িয়া ও নওপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল রাজশাহীর মিলের তুলনায় অন্তত তিন সপ্তাহ আগে চালু হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিলের ডিজিএম (সিপিই) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নর্থ বেঙ্গল আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে আমরা তাদের এলাকার আখ কিনি—এটা সত্য নয়। বাস্তবতা হলো, তারা মিল খোলার প্রায় ২১ দিন আগে থেকেই আমাদের গড়গড়ি ও সুলতানপুর এলাকার আখ নিয়ে থাকে। অনুসন্ধান করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”
সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। একাধিক কৃষক জানান, পদ্মা নদীর চরাঞ্চল বাঘা এলাকায় তাদের আখের জমি। রাজশাহী সুগার মিল দেরিতে চালু হওয়ায় মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখ বিক্রি করতে বাধ্য হন।
সুলতানপুর ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্রের সিআইসি নবাব আলী বলেন, “নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল আমাদের মিল খোলার অন্তত ২১ দিন আগে চালু হয়। এই সুযোগে আমাদের এলাকার কৃষকরা সেখানে আখ বিক্রি করেন। এটি রোধ করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমাদের নেই।” গড়গড়ি ক্রয়কেন্দ্রের সিআইসি আনিসুর রহমানও একই বক্তব্য দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিছুর রহমান বলেন, “যেসব কৃষক আমাদের মিলে আখ দেন, তারা আমাদের জরিপভুক্ত। আত্মীয়ের আখ নিজের নামে দেয় কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।” দুড়দুড়িয়া ক্রয়কেন্দ্রের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমরা নিজেদের এলাকার আখ নিয়েই হিমশিম খাই। অন্য এলাকার আখ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে জানান কৃষকরা। সুলতানপুর এলাকার সোলাইমান আলী বলেন, “দুটি সুগার মিল একসঙ্গে না খুললে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ি।” একই এলাকার আব্দুস সাত্তার বলেন, “আখে তেমন লাভ হয় না। মিল দেরিতে খুললে বাধ্য হয়ে অন্যের নামে আখ বিক্রি করতে হয়।”
গড়গড়ির কৃষক আরজেত আলী জানান, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল আগে খোলায় তিনি অন্য নামে সেখানে আখ বিক্রি করেছেন এবং বিলের কপি দেখান। নওপাড়া এলাকার কৃষক আবু তালেব বলেন, “একই করপোরেশনের অধীনে দুটি মিল হলে কেন এক মাসের ব্যবধান থাকে? এতে আখ ব্ল্যাক হয় এবং প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হন।”
কৃষকদের অভিযোগ, মিল ব্যবস্থাপনার এই সময়সূচির অসামঞ্জস্যই আখের ‘ব্ল্যাক ট্রেড’ বাড়াচ্ছে। তাদের একটাই দাবি—বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের আওতাধীন রাজশাহী ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল একই সময় চালু করতে হবে। তাতে কৃষকদের দুর্ভোগ কমবে, আখ পাচার বন্ধ হবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে।
২৯৯ বার পড়া হয়েছে