শেরপুরে তিন আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, শেরপুর-১ (সদর) আসনে কাগজপত্রে ত্রুটি, ঋণখেলাপি হওয়া এবং দলীয় মনোনয়নের কাগজপত্র জমা না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, জাতীয় পার্টি হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিন এবং খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জামায়াত মনোনীত হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, এনসিপি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব (অস্ট্রেলিয়া) বাতিলের আবেদন করা হলেও তা গ্রহণের প্রমাণপত্র দাখিল না করায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঋণখেলাপিসহ নানা অসঙ্গতির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং দলীয় কাগজপত্র না থাকাসহ তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে জামায়াত মনোনীত গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েসের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী চারজন প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরী বলেন, বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পরই তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। বড়দিন ও নববর্ষের ছুটির কারণে প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র ও ফি পরিশোধের কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, জেলায় মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রমাণপত্র না থাকায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে