ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো ধানের বীজতলা হুমকিতে
বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা এক সপ্তাহের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় বীজতলার চারাগাছ সাদা ও হলদেটে হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব বীজতলার বড় একটি অংশ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশেষ করে ঘন কুয়াশা, শিশির ও তীব্র শীতের প্রভাবে চারাগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সদর উপজেলার আমনুরা এলাকার কৃষক সরিফুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা ও ব্যয়বহুল ওষুধ প্রয়োগ করেও চারার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাম।
কৃষকদের আশঙ্কা, বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে বাইরে থেকে বেশি দামে চারা কিনতে হবে, যা বোরো ধান চাষে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক নাদিম বলেন, কুয়াশা ও শিশির জমে চারার গোড়া পচে যাচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলার চারায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিচ্ছে। তিনি কৃষকদের সন্ধ্যার সময় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, জমিতে অতিরিক্ত পানি জমতে না দেওয়া এবং সকালে সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।
১১৮ বার পড়া হয়েছে