পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছর: পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেএসএস-এর ক্ষোভ
রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি—এ অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরেনি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলায় জেএসএস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেএসএস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা। সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, রাঙামাটি জেলা সম্পাদক জুপিটার চাকমাসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত এবং ৯টি ধারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বাকি ধারাগুলো কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেএসএস নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলগুলো চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না, ফলে শান্তিচুক্তির মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
জেএসএস নেতারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি ২৮ বছর পেরুলেও দুই-তৃতীয়াংশ ধারা আজও অবাস্তবায়িত। তারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জেএসএস চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আট দফা দাবি উত্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ,
২. আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ ও নির্বাচন,
৩. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিধিমালা চূড়ান্তকরণ,
৪. অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারতফেরত জুম্ম শরণার্থীদের জমি ফেরত ও পুনর্বাসন,
৫. চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রযোজ্য আইন সংশোধন,
৬. অ-স্থানীয়দের প্রদত্ত ভূমি ইজারা বাতিল,
৭. এবং পার্বত্য অঞ্চলের চাকরিতে স্থানীয় অধিবাসীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিতকরণ।
নেতারা বলেন, এসব বিষয়ে কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, ফলে চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি থমকে আছে।
১০৫ বার পড়া হয়েছে