সর্বশেষ

জাতীয়বিএনপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তারেক রহমানের
আমাদের বিজয় হলে সর্বপ্রথম চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান: ডা.শফিকুর
প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণ, ভোট দিয়েছেন সাড়ে চার লাখের বেশি
নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে : ইসি সানাউল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল কার্যকর করবে না: জ্বালানি উপদেষ্টা
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
নির্বাচন ঘিরে ৩ দিন বন্ধ মোটরসাইকেল, একদিন মাইক্রো-ট্রাক
হাইকোর্টে মানবিক বিবেচনায় জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন
২২ বছর পর ময়মনসিংহে যাচ্ছেন তারেক রহমান, সার্কিট হাউসে জনসভা
সারাদেশআশুলিয়ায় গ্যাস লিকেজে বাসায় আগুন, ছাত্রদল নেতাসহ দগ্ধ ৪
ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : কুমিল্লায় আসিফ
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট নয়, নাটোরে নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা অধ্যক্ষ আনুর
চক্রান্ত করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে: নাটোরে দুলু
নিরাপত্তাহীনতায় সরে দাঁড়ালেন দিনাজপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ
হাদী হত্যার বিচার দাবিতে মুন্সীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
শেরপুরে ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, নগদ জরিমানা
ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের বিচার করায় ৩ জনকে কুপিয়ে জখম
টিটো হত্যায় আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মাগুরায় সংবাদ সম্মেলন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের গেটে ককটেল বিস্ফোরণ
আক্কেলপুরে মিনি পিকআপ–সিএনজি সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত
গোপালগঞ্জে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে কামরুজ্জামান বহিষ্কার
আন্তর্জাতিকভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, প্রাণহানির আশঙ্কা অন্তত ৫০
মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহারের দাবি ট্রাম্পের
খেলাঅনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা জয়ের খোঁজে ব্যর্থ বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার
ইয়ামালের দুর্দান্ত গোল, আবার শীর্ষে বার্সা
মতামত

ঢাকা টু দার উস সালাম: নারী স্বৈরশাসনের এক 'ডাবল এক্সপোজার'

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনকালে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর মামলা, গ্রেফতার ও গুমের অভিযোগ, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বেপরোয়া ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর শাসনকে কর্তৃত্ববাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও অন্যান্য আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের রায় এই অভিযোগগুলোকেই আরও রাজনৈতিক ও আইনি ওজন দিয়েছে।

একই সময়ে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ২০২৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় সর্বসম্মত জয় ছিনিয়ে নেয়ার পর পরই দেশজুড়ে বিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নির্বিচার গুলি, গণগ্রেফতার ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মতো পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের তদন্তে নির্বাচনের আগে ও পরে শত শত থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, লাশ গুম ও গণকবরের অভিযোগ সামনে আসায় তাঁকেও “উদীয়মান নারী স্বৈরশাসক” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

শেখ হাসিনার শাসনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল, বিপুলসংখ্যক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তাতে নির্বাচন মূলত ক্ষমতার বৈধতার আনুষ্ঠানিক অভিনয় হিসেবে কাজ করেছে—এমনই মন্তব্য রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে, যেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার উল্লেখ আছে। সামিয়া সুলুহুর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, প্রধান বিরোধী নেতা টুন্ডু লিসুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আটক অবস্থা, আরেক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থিতা বাতিল, এবং বাস্তবে একতরফা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাঁর পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করা হয়েছে।

দমন-পীড়নের ধরনে মিল স্পষ্ট। শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে গুম, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিরোধী রাজনীতিকে ভীত রাখতে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ, আর ইন্টারনেট ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নানা আইন প্রয়োগের ফলে সমালোচনামূলক কণ্ঠকে কোণঠাসা করা হয়েছে। তানজানিয়ায় সামিয়া সুলুহুর অধীনে নির্বাচনের পরপরই দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক প্রেসের ওপর চাপ দিয়ে বাস্তব চিত্র আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগ করছে বৈশ্বিক ডিজিটাল রাইটস প্ল্যাটফর্ম ও অধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দুই নেত্রীই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির ভাষ্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন; একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে ভিন্নমত দমন—এই দ্বিমুখী কৌশল “ডেভেলপমেন্টাল অটোক্রেসি” নামে পরিচিত নতুন স্বৈরশাসনের ধারায় তাঁদের অবস্থান মজবুত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার ও দারিদ্র্য হ্রাসের সাফল্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সমর্থন নেওয়া হয়েছে; তানজানিয়ায় গ্যাস, অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব ইমেজ ব্যবহার করে একই ধরনের বৈধতা সৃষ্টির চেষ্টা দেখা যায়।

তবে পার্থক্যও কম নয়। শেখ হাসিনা বহু নির্বাচনী চক্র ধরে রাষ্ট্রের প্রায় সব সাংবিধানিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরতন্ত্র গড়ার কাঠামো দিয়েছে। সামিয়া সুলুহু তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ে খুব দ্রুত ও রক্তাক্ত দমননীতির দিকে ঝুঁকেছেন; তাঁর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্তের দাবিতে ডসিয়ার ও পিটিশন জমা পড়ার স্তরেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ, আইনি প্রক্রিয়া কত দূর যাবে তা অনিশ্চিত।

তার পরও, ঢাকার শেখ হাসিনা থেকে দার এস সালামের সামিয়া সুলুহু পর্যন্ত—দুই নারী শাসকের দুই মহাদেশে একই ধরনের স্বৈরশাসক রূপরেখা দেখা যাওয়ায় অনেকে একে “নারী অটোক্র্যাটদের গ্লোবাল প্লেবুক” বলে অভিহিত করছেন, যার কেন্দ্রে আছে একতরফা নির্বাচন, নিরাপত্তা বাহিনীর বেপরোয়া ব্যবহার এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর লৌহমুষ্টি।


লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। 

২১৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন