নয়ন ওভারসিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: পারিবারিকভাবে মীমাংসা সত্ত্বেও হয়রানি
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদগঞ্জের ব্যবসায়ী নয়ন ওভারসিজের বিরুদ্ধে ঢাকা মুগদা থানায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নতুনভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফরিদগঞ্জের তৎকালীন চেয়ারম্যান হারুন ও এমপি শামসুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে নয়াপল্টনের চায়না টাওয়ারে নয়ন ওভারসিজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। সেই সময়কার আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং নয়ন ও তাঁর কর্মকাণ্ড বিএনপির কার্যক্রমের নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, নয়ন ওভারসিজ অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করছিল। এই ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নয়নের ভাগ্নি জামাই মোঃ আরিফ (৪৬) মুগদা থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সময় তিনজনকে আসামি বানানো হয় এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে যুক্ত করা হয়। মামলার প্রধান তিনজন আসামি ছিলেন: মোঃ আওলাদ শেখ (৪৫), আলী আহমেদ (রুবেল) (৩৩) এবং খোকন শেখ (৪০)।
মামলার প্রেক্ষিতে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২নং আসামি বাড়ির নির্মাণ কাজে পাথর সরবরাহ করলেও অপরাধে জড়িত ছিলেন না, আর ৩নং আসামি কখনোই ঢাকা আসেননি। চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ২নং ও ৩নং আসামিকে একসাথে পেয়েও ২নং আসামিকে ছেড়ে দিয়ে ৩নং আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
১নং আসামি মোঃ আওলাদ শেখ পুলিশ সুপারের কাছে ২/১১/২৫ তারিখে আপিল করেন। এফেক্ট হিসেবে ফরিদগঞ্জ থানায় একই দিনে লিখিতভাবে পারিবারিক মীমাংসা বা আপসনামা সম্পন্ন হয়।
তবে নয়ন ওভারসিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নং ৩২০ এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো, ২০২৫ সালের জুনে কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (CrPC)-এ Section 173A যুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ বা সাক্ষ্য-অভাব থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ থেকে নির্দোষ মানুষকে রক্ষা করা।
সরকার ২০২৫ সালের আগস্টে ঘোষণা দিয়েছে, যারা মিথ্যা মামলা দায়ের করবে বা অন্যকে হয়রানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিশন (JRC) ২০২৫-এর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, মিথ্যা মামলার শিকারদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা বাড়ানো উচিত। পুরনো সীমা (টাকা ১,০০০) অপ্রতুল; প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী বেশি ক্ষতিপূরণ এবং অনাদায়ে জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে।
পরিবারিক বিরোধ মিটমাট হওয়ার পরও যদি কেউ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে, সেটি বাংলাদেশে ম্যালিশাস প্রসিকিউশন (malicious prosecution) হিসেবে গণ্য হয়। CrPC-এর ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তেই যদি স্পষ্ট হয় যে অভিযোগ মিথ্যা, অসত্য বা ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক, ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি মামলা খারিজ করতে পারেন। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, জরিমানা এবং কারাদণ্ড হতে পারে।
আইনজীবীর মাধ্যমে ‘মিথ্যা মামলা খারিজের আবেদন’ (Petition for discharge) করলে, মামলাটি অভিযোগ গঠনের আগেই খারিজ করা সম্ভব। প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে:
১. পূর্বের পারিবারিক মীমাংসার চুক্তি/সমঝোতার কাগজ
২. মীমাংসার সময় উপস্থিতি/স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাক্ষ্য
৩. থানায় পূর্বে দেওয়া নথি
৪. যথাযথ প্রমাণ ও আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবিও করা যেতে পারে।
এ ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ মিটমাটের পরও মিথ্যা মামলা ব্যবহার করে হয়রানির বিষয় হিসেবে আলোচিত।
১৩১ বার পড়া হয়েছে