বাংলাদেশে সাবেক নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাধা ভারত
সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত মুহূর্তে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উদ্যোগের দিকে অগ্রসর হয়েছে দেশটি। তবে এই পদক্ষেপের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে ভারতের প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতা। এনিয়ে প্রতিবেদন করেছে সিএনএন।
শেখ হাসিনা, বাংলাদেশে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের নেত্রী, দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তার জীবনচক্রের নানা অধ্যায়ে তিনি পার করেছেন নির্বাসন, প্রতিরোধ, পুনরায় প্রত্যাবর্তন এবং শক্তিশালী শাসনামল। সম্প্রতি, ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়নের জন্য তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত এই নেত্রীকে বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, বাংলাদেশের সরকারের দাবি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সম্ভব হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা মনে করেন, এই বিষয়ে আইনি জটিলতা ও রাজনীতিক স্বার্থের কারণে সময় লাগবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন ও ধরে রাখার জন্য বহু চড়াই-উতরাই পার করেছেন। ১৯৭৫ সালে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড, দীর্ঘ নির্বাসন, এবং এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার সংগ্রাম—সবই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন তার বিরুদ্ধে আনা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর করবে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে এক সময়ের সাহসী নেত্রী এখন আন্তর্জাতিক আদালত ও রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় বিভেদ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি জটিলতাকে আরও বাড়িয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আভাস দিয়েছেন ভারতের কূটনীতিকরা। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে, একযোগে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা—সবই মিলিয়ে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও সরকারের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এখন প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার এই বিচ্ছিন্নতা ও বিচার কার্যক্রম কি একটি বিষাক্ত যুগের অবসান ঘটাবে, নাকি আরও অনিশ্চয়তার দিকে দেশের পথ প্রশস্ত করবে?
২৫২ বার পড়া হয়েছে