সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর বিক্রি ও দখলের অভিযোগ
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বনবাড়ীয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর অবৈধভাবে বিক্রি ও দখলের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলছে বলে জানিয়েছে সমবায় বিভাগ।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রামে ২০০১ সালে ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ৬০টি ঘরের আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে দ্বিতীয় দফায় আরও ৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হলে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকল্প পরিচালনায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা।
অভিযোগ সূত্র জানায়, আবাসন প্রকল্পের দুই নম্বর অংশে বসবাসকারী ৬টি হিন্দু পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্রমাগত হয়রানি ও শারীরিক-মানসিক অত্যাচারের মুখে ২০১৮ সালে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের স্থানান্তরিত ঘরগুলো পরবর্তীতে প্রতি সেট ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেয় পরিচালনা কমিটি।
প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, বনবাড়ীয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-২-এর সভাপতি আমজাদ হোসেন নিজের নামে বরাদ্দকৃত একটি ঘরের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫টি ঘর দখলে রেখেছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী নিজ বরদ্দ ছাড়াও দুটি ঘর অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এছাড়া প্রকল্পের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা কমিউনিটি সেন্টারের মূল্যবান আসবাবপত্রও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর অত্যাচার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন। তিনি জানান, আবাসন প্রকল্পের ঘর দখল ও সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ অনিয়মের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত ইউএনও সমীপে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮৩ বার পড়া হয়েছে