আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল—৩ জন আটক
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেজবুক এ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়া গ্রামে মৃত মোছেন শেখের ছেলে কিশোর মো. হোসাইন (১৫)-কে চুরির অভিযোগে বাড়ির পাশের একটি গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘর থেকে বের করে এনে এই নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে কিশোরটি অজ্ঞান হয়ে পড়লেও ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও মারধর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্যার নেতৃত্বে ইয়াসিন ও শাকিলসহ কয়েকজন এ নির্যাতনে অংশ নেন। সারাদিন দফায় দফায় তাকে মারধর করা হয় বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এলে ওই কারখানার একটি ড্রিল মেশিন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে সন্দেহ করা হয়। এর জেরে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কিশোর অভিযোগ করে জানায়, তাকে প্রথমে ঘরে আটকে রাখা হয়, পরে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। তার মা বানু বেগমও ছেলের ওপর নির্মম নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছেলেটির শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফিরোজ শেখ দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন এবং তার সামনে কোনো মারধর হয়নি। অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান জানান, তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের নিজের জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, ভিডিও পর্যালোচনা করে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান জানান, ভিডিও দেখার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩১ বার পড়া হয়েছে