কলাপাড়ায় ১৪ ফুটের ইলিশ নিয়ে ৩৩ বছর পর বৈশাখী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ ৩৩ বছর পর বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল রুপালি ইলিশ, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
শোভাযাত্রায় ইলিশের পাশাপাশি থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শান্তির প্রতীক পায়রা, বক ও পেঁচার প্রতিকৃতি এবং শৈশবের হারিয়ে যাওয়া শতাধিক মুখোশ। আয়োজনটি করছে কলাপাড়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রংধনু’, যারা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, বাংলা ১৪০০ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে কলাপাড়ায় বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী এ অঞ্চলের পরিচিতি বহনকারী ইলিশ মাছকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এবারের শোভাযাত্রার মূল থিম। বর্তমানে ১৪ ফুটের ইলিশটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজ।
শোভাযাত্রা সফল করতে স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের পাশাপাশি চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও দিনরাত কাজ করছেন। কেউ দিচ্ছেন রঙের শেষ আঁচর, কেউ তৈরি করছেন মুখোশ, আবার কেউ প্রস্তুত করছেন বাঙালির কৃষিজীবন ও নদীনির্ভর জীবনের নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ।
রংধনুর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোশারফ কল্লোল বলেন, গত তিন দশকে নতুন প্রজন্মের কাছে বৈশাখ উদযাপন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নতুন পোশাক পরা ও বিনোদনে। বাঙালির ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা কম। সেই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ন কবির জুয়েল সিকদার জানান, কলাপাড়ায় এমন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বহু বছর দেখা যায়নি। তাই নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। শোভাযাত্রার পাশাপাশি লোকজ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।
এদিকে, যশোর চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিল্পী মো. রিপন লামা বলেন, হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যকে আবারও মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উৎসবকে ঘিরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মুড়ি, মুরকি, বাতাসা ও দধি বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
১২৭ বার পড়া হয়েছে