চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের মানুরী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারীর কক্ষে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা দরজা ও আলমিরার তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এলোমেলো করে ফেলে এবং কিছু মূল্যবান নথি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমিনুল হক। এ বিষয়ে তিনি ১১ এপ্রিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মানববন্ধনে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সফিকুর রহমান মজুমদার, বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরিফুল ইসলাম ও আনিছা তাবাচ্ছুম। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে মো. পারভেজ, মো. মিজানুর রহমানসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল হক জানান, ঘটনার পর শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার গ্রিল কেটে দুটি কক্ষে প্রবেশ করে। পরে তারা কক্ষগুলোর দরজা ও আলমিরার তালা ভেঙে সবকিছু তছনছ করে ফেলে রেখে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দুই দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অধ্যক্ষ সহযোগিতা করলে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি অবহিত করেনি। তবে তিনি খোঁজখবর নিয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
১২৪ বার পড়া হয়েছে