অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমেছে ভিড়, ফিরেছে শৃঙ্খলা
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসন অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় এখন বিশেষ একটি অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে পাম্পগুলোর চিরচেনা ভিড় কমেছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিটি পাম্পে সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’ দায়িত্ব পালন করছেন। মোটরসাইকেল আরোহীরা পাম্পে পৌঁছালে প্রথমে তাদের বাইকের বৈধ কাগজপত্র এবং নম্বর প্লেট যাচাই করা হচ্ছে। এরপর তথ্য নির্ধারিত অ্যাপে ইনপুট দেওয়ার পরই জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী একবারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি নিতে পারছেন। তবে একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ দিন ওই অ্যাপের মাধ্যমে তিনি আর তেল নিতে পারবেন না—এটাই এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শুধু মোটরসাইকেল নয়, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও কৃষি অফিস থেকে দেওয়া বিশেষ কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি নিতে হলে ইউএনও অফিসের প্রত্যয়নপত্র প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
পাম্প মালিকরা জানান, আগে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকত। একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ায় প্রকৃত গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়তেন। তবে অ্যাপভিত্তিক এই কঠোর নিয়ম চালুর ফলে একজন চালকের একাধিকবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এতে পাম্পে শৃঙ্খলা ফিরেছে এবং গ্রাহকরা দ্রুত তেল নিয়ে যেতে পারছেন। তাদের দাবি, নতুন নিয়ম চালুর পর ভিড় অর্ধেকের বেশি কমেছে।
অ্যাপ ব্যবস্থার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে। মালেক নামের এক বাইকচালক বলেন, “সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল নিতে হচ্ছে। চাকরিজীবী হওয়ায় এতে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।”
একই নামের আরেকজন পল্লি চিকিৎসক মালেক জানান, “ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের কাজে তেলের খুব প্রয়োজন। তেল নিতে এসে সময় নষ্ট হওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।”
বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, “সারাদেশেই তেলের সংকট চলছে। আগে পাম্পগুলোতে অনেক গণ্ডগোল হতো। অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়ায় সেই গণ্ডগোল অনেকটাই কমেছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ।”
আলী ড্রিম পেট্রোল পাম্পের মালিক ইঞ্জিনিয়ার সুমন আলী জানান, ইউএনও অফিসের নির্দেশনায় তারা অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি করছেন। “আমরা ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছি পাঁচ দিনের জন্য, যা একজন বাইকারের জন্য যথেষ্ট। অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি,” বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, “অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রিতে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। এতে গ্রাহকের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে আমরা প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি।”
সার্বিকভাবে, অ্যাপভিত্তিক এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে সংশ্লিষ্টদের মতামত।
১২১ বার পড়া হয়েছে