সর্বশেষ

সারাদেশ

বান্দরবানসহ তিন জেলায় বৈসাবি উৎসবের আমেজে নববর্ষ বরণ

মো. আরিফ, বান্দরবান 
মো. আরিফ, বান্দরবান 

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উৎসবের আমেজে ভাসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সুমধুর ঐতিহ্যবাহী গান, যার তালে তালে চলছে মনোমুগ্ধকর গরাইয়া নৃত্য।

বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় ত্রিপুরা অধ্যুষিত পাড়া, মহল্লা ও শহরজুড়ে চলছে এ নৃত্য-উৎসব। একই সঙ্গে চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষও মেতে উঠেছে তাদের প্রাণের উৎসব বৈসাবির আনন্দে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর চরে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বৈসাবির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বিশ্বশান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ এ আচার পালন করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা, বিশেষ করে বান্দরবান, বহুজাতিক সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। এখানে বাঙালিদের পাশাপাশি ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো জেলায় দেখা যায় না। বৈচিত্র্যময় এই সংস্কৃতির সম্মিলনে বৈসাবি উৎসব হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত।

তিন দিনব্যাপী বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণের এই উৎসবের মূল পর্ব চলে চৈত্রের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখে। পুরাতন বছরের দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে উদ্‌যাপন করা হয় বৈসাবি।

‘বৈসাবি’ নামটির উৎপত্তি ১৯৮৫ সালে। ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমাদের ‘বিজু’—এই তিন উৎসবের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে এ নামকরণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পার্বত্য এলাকার অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়; এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। এ উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব তিন ধাপে উদ্‌যাপিত হয়। চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন ‘হারি বৈসু’ পালিত হয়। এদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে সুখ-শান্তির প্রার্থনা করা হয় এবং নদী, মন্দির ও পবিত্র স্থানে ফুল, ধূপ ও প্রদীপ উৎসর্গ করা হয়। একে অপরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর রীতি এ দিনের অন্যতম আকর্ষণ।

বর্ষশেষের দিন ‘বিসুমা বৈসু’ পালিত হয়। এদিন হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ঘরবাড়ি পবিত্র করতে কুচাই পানি ছিটানো হয় এবং ঘরে ঘরে পিঠা, মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়। শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা সাজসজ্জা করে দলবেঁধে আনন্দে মেতে ওঠে।

নববর্ষের দিন ‘বিসিকাতাল’ হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়। এদিন নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে শস্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়। তরুণ-তরুণী ও নবদম্পতিরা কলসিতে পানি ও ফুল নিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের গোসল করিয়ে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করে।

সব মিলিয়ে বৈসাবি উৎসব এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের উৎসব, যা আনন্দ, ঐক্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে পাহাড়ের কোলে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন