নড়াইলে অনুমতি ছাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টে র্যাফেল ড্র, সমালোচনার ঝড়
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের নামে র্যাফেল ড্র আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার শেখহাটি বাজারের পাশে শেখহাটি তপনভাগ যুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় যুব সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্বঘোষিত সমাজসেবক জিকো মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি। তবে এ ধরনের আয়োজনকে লটারির নামে জুয়া আখ্যা দিয়ে এর কড়া সমালোচনা করেছেন সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মীরা।
সরেজমিনে শনিবার বিকেলে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় র্যাফেল ড্র-এর টিকিট কাটার জন্য কয়েকজন যুবক চাপাচাপি করছিলেন, যা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। প্রতি টিকিটের মূল্য ছিল ১০ টাকা এবং বিভিন্ন পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে খেলার নামে এ ধরনের র্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়েছে। এসব নিয়ে সমালোচনা হলেও আয়োজকরা তা উপেক্ষা করে আসছেন। তারা আরও জানান, কত টাকার টিকিট বিক্রি হয় এবং কত মূল্যের পুরস্কার দেওয়া হয়—এ বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায় না।
সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মীরা এ ধরনের আয়োজনের সমালোচনা করেছেন। সমাজকর্মী কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, “যদি পুরস্কার পাওয়ার আশায় কোনো অর্থ ব্যয় করে অনিশ্চিত লাভের বাজি ধরা হয়, তবে সেটি জুয়া। গ্রামের দিকে এসব লটারির আয়োজন করলে সাধারণ মানুষ না বুঝেই পুরস্কারের লোভে এতে জড়িয়ে পড়ে। এমন আয়োজন চলতে থাকলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
অন্যদিকে, র্যাফেল ড্র আয়োজনের অনুমতি থাকার দাবি করেন জিকো মাহমুদ। তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা এসপি অফিস ও ডিসি অফিসে জানাইছি। এছাড়া ওসি অফিসেও জানিয়েছি যে আমরা একটি র্যাফেল ড্র করব। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জও বিষয়টি জানেন।”
সন্ধ্যার দিকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “র্যাফেল ড্রটি আনন্দের বিষয়। খেলাধুলার সহযোগিতা হিসেবে এবং মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অংশ হিসেবে এটি আয়োজন করা হয়েছে, যা সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে। র্যাফেল ড্র আয়োজন করতে আইনি কোনো বাধা আছে কি না, তা আমি জানি না।”
এ বিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার মুঠোফোনে বলেন, যিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তিনি মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করেছেন, কারণ সেখানে অনেক মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আয়োজকরা অনুমতি নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে অবগত করা হয়নি বলে তিনি ধারণা করেন।
এদিকে নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল ছালাম বলেন, “র্যাফেল ড্র আয়োজন করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি অবশ্যই নিতে হয়। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।”
১২১ বার পড়া হয়েছে