হত্যাচেষ্টার অভিযোগে লালবাগ থানায় করা মামলায় শিরীন শারমিনের জামিন
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় মুক্তি পেতে কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে গুলি লাগে। পরে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে আশরাফুল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫–১২০ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয় না; পরবর্তী স্পিকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকেন। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায়, ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
নবম জাতীয় সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর স্পিকার পদে পরিবর্তন আসে এবং তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হন। এরপর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে