সিলেটে অপরাধের জাল: পুলিশের ‘নিরাপদ শহর’ দাবির আড়ালে সাংবাদিক ও নাগরিকরাও টার্গেটে
বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট শহর চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির এক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা ও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা নগরবাসীর ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি শহরে অপরাধের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারিতে হাউজিং এস্টেটে এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই এবং ৫ মার্চ সাগরদিঘিরপাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে কুপিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ২ মার্চ সাংবাদিক মো. ইসলাম আলীর বাসায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট এবং ৪ এপ্রিল জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য রায়হান উদ্দিন ও সাবেক সদস্য ওহী আলম রেজার শিশু সন্তানের কাছে ছুরি ঠেকিয়ে লুটপাটের ঘটনা শহরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ‘Numbeo’ ডটকমের ইনডেক্স দেখিয়ে সিলেটকে ‘সবচেয়ে নিরাপদ শহর’ দাবি করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইয়ের ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা এবং সাংবাদিক ও প্রতিবাদী রাজনৈতিক নেতাদের ‘টার্গেট’ করার অভিযোগও উঠেছে।
জেলা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীলরা পুলিশের অবস্থানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ফুলবাগানে সংবাদ সম্মেলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রবীণ সাংবাদিকরা বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে নগর এত অনিরাপদ ছিল না।’ ৭ এপ্রিল বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলের পর পুলিশের বদলে নাগরিক ও সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিক নেতারা দাবি করেছেন, অবিলম্বে অসাধু কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, অন্যথায় সিলেটের মানুষ কঠোর গণ-আন্দোলনে বাধ্য হবে।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে