অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ! যাচাই-বাছাই চলছে
বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ক্ষমতা ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ। অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই লিখিত হলেও অনেক অভিযোগকারী পরিচয় গোপন রেখেছেন বলে জানা গেছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে, সেগুলো পরবর্তী অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে। একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তিনি নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম-এর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করে বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে জামিন বাণিজ্য, বিচারক বদলি এবং সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২৮৬ জন সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ঘটনায় দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের বিরুদ্ধেও অবৈধ আয়ের অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ জমা পড়েছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-এর বিরুদ্ধেও টেন্ডার জালিয়াতি ও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। তার বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম-এর বিরুদ্ধেও টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং কিছু অভিযোগের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রমাণ মিললে বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে জানানো হবে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। তবে কেউ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
১৪৩ বার পড়া হয়েছে