ফুলবাড়িয়ায় মুরগির বিষ্ঠা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
হামলার সময় ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লেয়ার মুরগি পালন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আ.লীগ নেতাকর্মীরা ওই কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা বিনামূল্যে নিয়ে বিক্রি করতেন। তবে আ.লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে দুটি বাস, একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি, সিএনজিসহ দুই শতাধিক জামায়াত নেতাকর্মী সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে প্রবেশ করে ম্যানেজারের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং দুই ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যান। পাশাপাশি কাহালগাঁও বাজারে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলার ভিডিও বিভিন্ন সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটসহ ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকের তালা ভেঙে ৫ লাখ টাকা লুট, শ্রমিক দল নেতা কাইয়ুম তালুকদারের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ভাঙচুর, বাজারে থাকা ১১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ৫টি মোটরসাইকেল লুটের ঘটনা ঘটে।
ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার মো. শামীম হক বলেন, “আমি বিকেল ৪টার দিকে ব্যাংকের তালা বন্ধ করে যাই। রাত ১১টার দিকে জামায়াতের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী বাজারে হামলা চালায়। এ সময় আমার ব্যাংকের তালা ভেঙে ৫ লাখ টাকা লুট করা হয়।”
গাজী কোম্পানির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ সুজন মিয়া জানান, “রাতে হঠাৎ জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা করে। হামলায় আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়।”
কাহালগাঁও বাজারের ইজারাদার আমিমুল ইসলাম বলেন, “হামলার সময় আমি বাজারে ছিলাম। হঠাৎ জামায়াত নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমার মোটরসাইকেলও লুট করে নিয়ে গেছে।”
বাংলাদেশ কোম্পানির ম্যানেজার সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা মুরগির বিষ্ঠা বিনামূল্যে দিয়ে দিই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের নেতাকর্মীরা নিতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। নির্বাচনের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।” তিনি আরও জানান, প্রতি দেড় মাসে ৬টি শেড থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিষ্ঠা উৎপাদিত হয় এবং বিষয়টি ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কাহালগাঁও বাজারে হামলা বা লুটপাটে জামায়াত জড়িত নয়। তারা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মো. আ. মজিদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। যদি কমিটি তদন্তে কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পায়, তবে সাংগঠনিক ও আইনগত সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, “এটি একটি সন্ত্রাসী ও ডাকাতি কার্যক্রম। জামায়াত যে একটি সন্ত্রাসী দল, এ ঘটনায় তা পুনরায় প্রমাণিত হলো। বিএনপির পক্ষ থেকে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। হামলায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
১৫৮ বার পড়া হয়েছে