সর্বশেষ

মতামত

বাংলা নববর্ষ : ঐহিত্য ও ইতিহাসের অংশ

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলা বছর বা বাংলা সন অথবা বঙ্গাব্দ, যে নামেই ডাকা হোক না কেন বাংলা নববর্ষ হচ্ছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অহংকার। এই বাংলা সনের প্রবর্তক হলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট মির্জা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর। সম্রাট কর্তৃক রাজ্যের খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্যই ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬) সম্রাট আকবর হিজরি ও সৌর সনের সমন্বয়ে এই নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করেছিলেন, যা প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল। জ্যোতির্বিদ আমীর ফতুল্লাহ শিরাজী এটি তৈরি করেন এবং আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (১৫৫৬ সাল বা ৯৬৩ হিজরি) থেকে এর গণনা শুরু হয়েছিল।

মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর সিংহাসনে আরোহণ করেন, যা হিজরি ৯৬৩ সাল। কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কাটার পর কর আদায়ের সুবিধার্থে তিনি এই নতুন সন চালু করেন। সম্রাট আকবর কর্তৃক নিযুক্ত জ্যোতির্বিদ ও বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজী হিজরি চান্দ্র বর্ষ এবং ভারতীয় সৌর বর্ষপঞ্জির সমন্বয় করে "তারিখ-এ-এলাহি" বা ফসলি সন তৈরি করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এই সন প্রবর্তন করা হলেও, এটি সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর (১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ বা ৯৬৩ হিজরি) থেকে কার্যকর করা হয়। ফলে শুরুর বছর থেকেই বাংলা সন ৯৬৩ বছর এগিয়ে থাকে। সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। বৈশাখ মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হয় কারণ ৯৬৩ হিজরি বছরের মহরম মাস বৈশাখ মাসের সঙ্গে মিলেছিল। সময়ের সাথে সাথে এই "ফসলি সন" বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষির সাথে মিশে "বঙ্গাব্দ" বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়। ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছরটিকে ভিত্তি ধরে, তার শাসনামলে (১৫৮৪ সালের দিকে) কৃষি কর আদায়ের জন্য হিজরি ও সৌর সনের সংমিশ্রণে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়, যা এখন পহেলা বৈশাখ হিসেবে বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখটা যেন কত? প্রশ্নটা প্রায় সকল বাঙালিকেই নাকানিচুবানি খাওয়ায়। বুশের ইরাক আক্রমণ, ইরাক-ইরান যুদ্ধসহ নানা তথ্য জিভের ডগায়। প্লেটোর পলায়ন থেকে বেনিংটনের আত্মহত্যা—গড়গড় করে বলা যাবে ঘণ্টা দেড়েক। অথচ এই একটা প্রশ্নে অস্বস্তিতেই পড়তে হয় না এমন বাঙালি বাংলা মূল্লুকে খুব কমই আছে। হাঁড়ির খবর ঘাঁটতে গেলে হয়তো তেতো অভিজ্ঞতা হাসিলের উদাহরণও কম পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাতে বাঙালিকে ‘বেখবর জাতি’ তকমা দেয়াটা বিষম রকমের ভুল হবে। এই যে বসন্তবরণ, পহেলা বৈশাখ, মাঘ সংক্রান্তির মতো উৎসব যাপন, সে তো আর জোর জবরদস্তিতে করানো হয় না। সদিচ্ছাতেই পালন করে বাঙালিরা।

রাজস্ব আদায়ের জন্য সম্রাটের পক্ষ থেকে চাপ আসত প্রায়ই। সাধারণ মানুষরা ফসল না কেটে তো আর খাজনা দিতে পারত না। অনেকটা সে কারণেই নবাবেরা পুণ্যাহের প্রবর্তন করেন। নবাবের বাড়িতে উৎসব ও খাবার দাবারের আয়োজন থাকতো আর সাধারণ মানুষ তাতে যোগ দেবার পাশাপাশি রাজস্ব পরিশোধ করত। নবাবের বাড়িতে মেহমান হিসেবে আপ্যায়িত হওয়াটা কম কথা না। রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়ে গেল দিনটা। নববর্ষ চালুর ইতিহাসের পুণ্যাহের তাৎপর্য ব্যাপক। খুব সম্ভবত ব্যবসায়ীরা সেখান থেকেই হালখাতার অনুপ্রেরণা পেয়েছে। (সূত্র: পূর্বোক্ত গ্রন্থে শামসুজ্জামান খানের নিবন্ধ, পৃষ্ঠা: ১১১)।

মোটামুটি সেভাবেই চলেছে ইতিহাস। ১৯৫২ সালে প্রখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা এবং তার কমিটি ভারতের অন্যান্য সালের সঙ্গে বাংলা সনেও সংস্কারের প্রস্তাব করেন। ভারত সরকার তার প্রস্তাব গ্রহণ করে ১৯৫৭ সালে। সেই সংস্কারের কথা মাথায় রেখে ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে বাংলা ক্যালেন্ডার সংস্কার কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। বাংলাদেশ জন্মের পর তাজউদ্দিন আহমদ সরকারি নথিতে বাংলা তারিখের প্রথা চালু করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে তা আরো দৃঢ় হয়। অবশেষে ১৯৮৭ সাল থেকে সরকারি কাজে খ্রিষ্টাব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলা সন লেখার নির্দেশনা আসে। বাংলা ক্যালেন্ডার আধুনিকায়নে মেঘনাদ সাহা এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর ভূমিকা অগ্রগণ্য। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে শহীদুল্লাহ্ কমিটির প্রস্তাবনায় উন্নয়ন আনা হয়। ১৩ই আগস্ট, ১৯৯৫ এবং ১৯শে আগস্ট, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে পরপর দুই সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

মুসলমানদের আগমনের আগে ভারতের মানুষ পঞ্জিকা ব্যবহার করত। আল-বিরুনির ভারততত্ত্ব মোতাবেকই সন প্রচলিত ছিল বেশুমার। উজ্জয়নীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নামে বিক্রমাব্দ, চতুর্থ শতকের দিকে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের নামে গুপ্তাব্দ, উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধনের নামে হর্ষাব্দ, সম্ভাব্য শক-ক্ষত্রপদের নামে শকাব্দ ছিল সবচেয়ে পরিচিত। তাছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক সন তো ছিলই। সেনরাজাদের আমলেই বাংলার মানুষ শকাব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়। বখতিয়ার খলজির বাংলা অভিযানের পর হিজরি এবং শকাব্দ—দুটোরই ব্যবহার দেখা যায়। সেই সঙ্গে ছিল পরগণাতি নামে আরেক কিসিমের সাল গণনা। সেন বংশের পতনকাল থেকে এই সনের উত্থান বলে ধারণা করা হয়। (নিবন্ধ: প্রাচীন ভারতীয় বর্ষপঞ্জি: একটি সমীক্ষা, অজয় রায়, পৃষ্ঠা: ৩০, গ্রন্থ: বাংলা সন ও পঞ্জিকার ইতিহাস-চর্চা এবং বৈজ্ঞানিক সংস্কার ইন্দোনেশিয়ার শিলালিপিতে প্রাপ্ত সপ্তম খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকের শকাব্দ: অন্যান্য সনগুলোর উৎস যতটা হুটহাট বলে দেওয়া যায়, বঙ্গাব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টা অতো সহজ না। বঙ্গ তো আর কোনো শাসকের নাম না, যে শিলালিপি দেখে শাসনকাল খুঁজে একটা কিছু বলে দিলেই কেল্লাফতে। বঙ্গ একটা আঞ্চলিক পরিচয়। হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা এক জনপদের নাম। প্রাচীনকাল থেকেই স্থানীয় মানুষরা জীবনযাপনের তাগিদে ঋতুর হিসেব রাখত, তেমন ভাবনা স্বাভাবিক। তারপরেও বঙ্গাব্দের জন্মকথায় চারজন শাসকের দাবি নিয়ে পণ্ডিতরা বিভাজিত। তিব্বতীয় রাজা স্রং সন, গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক, সুলতান হোসেন শাহ এবং মহামতি সম্রাট আকবর।

১৫৮৪ সালে অর্থাৎ নয় বছরে (১৫৮৪-১৫৫৬= ৯) তিন মাসকাল ব্যবধান হওয়ায় ফসল ওঠার মৌসুম আসার আগেই খাজনা আদায়ের সময় চলে আসে। তাই সহজে রাজস্বার্থে রাজস্ব আদায় এবং প্রজার কষ্টের লাঘব—দুয়ের সমন্বয়ে রাজদরবারের জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ পণ্ডিত আমির ফতুল্লাহ সিরাজির বঙ্গাব্দের উদ্ভাবন। সম্রাটের স্বার্থ ও প্রজার প্রয়োজন সিরাজিকে দিয়ে বঙ্গাব্দের উদ্ভাবন ঘটাল। পূর্ব প্রচলিত শকাব্দের মাস ও দিনের নামগুলো সিরাজি হুবহু বাংলা সনে ঠিক রাখলেন। আকবর ১৫৮৫ সাল থেকে সুবে বাংলায় পুরোপুরি বঙ্গাব্দ চালু করেন। যা স্থানীয় পরিবেশের অনুকূল ও গণ-উপযোগী হওয়ায় অতিদ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে আকবরের অর্থমন্ত্রী টোডরমল কর্তৃক সুবে বাংলায় চালুকৃত ইলাহী সন পরিত্যক্ত হয় এবং বাংলা সন প্রতিষ্ঠা পায়।

বর্তমানে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা—যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বহু দেশে—এই দিনটি উদযাপন করে পারিবারিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। ডিজিটাল যুগে এই উৎসব বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। অনলাইনে শুভেচ্ছা বিনিময়, ছবি-ভিডিও শেয়ার, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে নববর্ষের উদযাপন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা আমাদের যেন শেকড় থেকে আলগা না করে ফেলে। আগে যেখানে নববর্ষ মানে ছিল পারিবারিক মিলনমেলা, গ্রামীণ উৎসব আর ব্যক্তিগত উপস্থিতি, সেখানে এখন অনেকেই কেবল ভার্চুয়াল বার্তায় সীমাবদ্ধ থাকেন। প্রযুক্তি আর ঐতিহ্যের এই ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলা নববর্ষ শুরু হয় এমন একসময়, যখন বসন্তের দহনকাল পার করে গ্রীষ্মের উদারতায় প্রকৃতিকে ভরিয়ে তোলে বিচিত্র রসাল ফলসম্ভারে। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি ফলের মুকুল সবুজ কাঁচা হইতে ধীরে ধীরে পরিণত হতে শুরু করে। পহেলা বৈশাখ যেন প্রকৃতির এই রূপান্তরের প্রতীক—একটি রূপান্তর। বৈশাখের অর্থই যেন নূতনকে বরণ করে নেওয়া, পুরাতন ক্ষত মুছিয়া নূতন সম্ভাবনার পথে পা বাড়ানো। তাই তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উচ্চারণ করেন: 'মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।' এই আহ্বান কেবল ঋতু পরিবর্তনের নয়, এটা এক আত্মিক শুদ্ধির আহ্বান, এক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণেরও সংকেত। আর তাই 'ছাড়ো ডাক, হে রুদ্র বৈশাখ!' কবিতায় কবির সেই রুদ্র-উদ্দীপ্ত আহ্বান যেন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বিশ্ব এখন অস্থিরতার ভিতর দিয়ে যাইতেছে। যুদ্ধ, জলবায়ুসংকট, বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা আর সামাজিক বিভাজন আমাদের ঘিরে ধরেছে। এমন সময়ে বাংলা নববর্ষ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—আমাদের মধ্যে প্রয়োজন সুদৃঢ় ঐক্য। কবি নজরুলের প্রলয়োল্লাসের ঝড় বইছে বিশ্বব্যাপী। এর মধ্যেই কবি বলেছেন— 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর! / ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বৈশাখির ঝড়।'

বাংলা নববর্ষ শুধুই ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি নতুন সংখ্যা নয়। এটি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ। বৈশাখ আমাদের শেখায় মিলেমিশে থাকতে, নতুন করে শুরু করতে। তাই বাহ্যিক উৎসবের বাইরেও এর অন্তর্নিহিত চেতনা লালন করাটাই সবচেয়ে জরুরি। বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, বরং বাঙালি জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মিলনের প্রতীক। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে বাংলার আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে নতুন আশায়, নতুন আনন্দে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে এই দিনটি পালিত হয় উৎসবের আমেজে, যা আমাদের জাতিসত্তার রঙিন প্রকাশ। পহেলা বৈশাখ কেবল আনন্দ-উৎসবের দিন নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবাই এই দিনটিকে উদযাপন করে। এটি আমাদের ঐক্যের প্রতীক, যা বাঙালি জাতিকে এক সুতোয় গাঁথে।

এক সময় নববর্ষ ছিল মূলত কৃষিনির্ভর একটি উৎসব। কালের পরিক্রমায় তা হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। এখন বর্ষবরণের আয়োজনে বাংলা গান, কবিতা, লোকনৃত্য, নাটক পরিবেশিত হয়, যা আমাদের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। মূলত: বাংলা নববর্ষ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা এক বৃহত্তর ধারার অংশ। বাংলা নববর্ষ এই বার্তা দেয় যে, আমরা আলাদা কেও নই। বর্তমানে প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগুক বা না লাগুক, বাংলা নববর্ষ আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। আর এই ঐতিহ্যের মধ্যে আমাদের নিজেদেরকে চিনতে পারব। আর নিজেকে চেনার মতো নিজেদের চিনাটাও জরুরি। নববর্ষ সেই চিনার কাজটি করে। সময় এখন সৌহার্দ্যের, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের। সকলের শুভ হউক। শুভ নববর্ষ।

লেখক : রাজনীতিক, কলাম লেখক ও রাজনীতিক বিশ্লেষক

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন