রূপগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর নির্যাতন, সৎ মা-ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর শারীরিক নির্যাতন, অত্যাচার, জমি দখলের চেষ্টা এবং ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সৎ মা ও সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাবিনা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাকপ্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরীর স্ত্রী সাবিনা বেগম বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। শাহজাহান চৌধুরীর বাবা জয়নাল উদ্দিন চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী গোলাতুন্নেসার ঘরে জন্ম নেন দুই ছেলে—বাকপ্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরী ও মিজানুর রহমান। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জয়নাল উদ্দিন চৌধুরী দ্বিতীয়বার হামিদা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আজাহার হোসেন, আতাউর রহমান, আতিকুর রহমান, আশরাফুল হক এবং ফাতেমা বেগমের জন্ম হয়।
পরিবারের অভিযোগ, জয়নাল উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর বাকপ্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরী দিনমজুরের কাজ করে সংসারের দায়িত্ব নেন। তিনি সৎ ভাইদের লেখাপড়ার খরচ বহন করেন এবং বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে আতাউর হোসেন ও আতিকুর রহমানকে দুবাই পাঠান।
বর্তমানে অভিযোগ উঠেছে, সৎ মা ও সৎ ভাইয়েরা একত্র হয়ে শাহজাহান চৌধুরীকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে সোহান চৌধুরীসহ তিন সন্তান ও স্ত্রী সাবিনা বেগমকে মারধর ও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া, ভাঙাচোরা ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া এবং পুকুর ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী হয়েও শাহজাহান চৌধুরী ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন। অথচ বর্তমানে সৎ মা ও ভাইদের মাধ্যমে তার ওপর নির্যাতন ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সৎ ভাই আতাউর রহমান বলেন, শাহজাহান চৌধুরীর প্রাপ্য জমি ১৬ বছর আগেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অযথা তাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পূর্বাচল সার্কেলের ফরিদ আল সোহান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী জমি মেপে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করে পৈতৃক জমি সঠিকভাবে মেপে বুঝিয়ে দেওয়া হোক, যাতে তারা সেখানে ঘর নির্মাণ করে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে