ফরিদপুর মেডিকেলের ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’ মামলা ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বাকি ৬ জন অব্যাহতি পেলেন
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের বহুল আলোচিত ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’ মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলায় ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত, অপরদিকে আরও ৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন— ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন, মুন্সি ফররুখ হোসেন, মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন, মো. আলমগীর কবির এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষক ডা. বরুণ কান্তি বিশ্বাস ও ডা. মো. এনামুল হক।
অন্যদিকে, যেসব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— সাবেক অধ্যাপক ডা. শেখ আবদুল ফাত্তাহ, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান, মো. ওমর ফারুক, মো. আলমগীর ফকির, মো. আবদুস সাত্তার ও মিয়া মোর্তজা হোসেন।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট টি এম শাকিল হাসান, হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট আরফান সুলতানা ও টি এম আবিদ হাসান এবং ফরিদপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ সামাদ।
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ কুবাদ হোসেন। তিনি জানান, আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন এবং বাকি ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে দুদকে পাঠানো হবে, পরবর্তীতে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের জন্য ‘অনিক ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উচ্চমূল্যে দেখিয়ে বিল জমা দেওয়া হয়েছিল।
বিতর্কিত এই ক্রয়ের তালিকায় আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ধরা হয় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টের মূল্য দেখানো হয় ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়।
শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বিল অনুমোদন না করায় অর্থ ছাড় স্থগিত হয়ে যায় এবং বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
১২৬ বার পড়া হয়েছে