কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছেই না: প্রভাবশালী দুই পক্ষের আঁতাতের অভিযোগ
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন গভীর রাতে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের দুই প্রভাবশালী পক্ষের গোপন সমঝোতার কারণেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের কালাইরাগ গ্রামের নয়াবাজারের পূর্ব পাশ, শ্মশানঘাটের উত্তরাংশ এবং বড় মসজিদের দক্ষিণ এলাকায় প্রতিদিন রাত দেড়টা থেকে সকাল পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে নেওয়ায় আশপাশের মসজিদ ও শ্মশানঘাট ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী নেতা শাহাবুদ্দিন। অন্যদিকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর সরবরাহের সঙ্গে জড়িত হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত নাম উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া। যদিও রজন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি এ কাজে জড়িত নন এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি তার মালিকানাধীন নয়।
এছাড়া এই সিন্ডিকেটে মাঠপর্যায়ে আরও কয়েকজন সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।
স্থানীয়দের দেওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে সরকারি সম্পদ লুটের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থাপনার ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদারের কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঝুঁকির মুখে পড়ছে ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে