সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় দখলদারদের হাত থেকে সরকারি খাল রক্ষা চায় উপজেলা প্রশাসন

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পৌর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পয়োনিষ্কাশনের একমাত্র খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ছলিমুল্লাহ তালুকদার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, খেপুপাড়া মৌজার পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জিনবুনিয়া খালটির টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী অংশে অন্তত সহস্রাধিক একর আবাদী জমি রয়েছে। এর উৎপাদিত ফসলের উপর নির্ভর করে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা।

তিনি জানান, একটি কুচক্রী মহল পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সরকারী খালের শ্রেণি পরিবর্তন করে খালটি দখল করেছে। এতে ঘরবাড়ি তৈরির পাশাপাশি পুকুর-নালা কেটে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। অবৈধ দখলকারীদের কারণে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, ফলে অনেক কৃষকের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া কৃষি জমি অনাবাদী থাকে, যার কারণে অধিকাংশ কৃষক বছর জুড়ে আর্থিক সংকটে পড়ে।

আবেদনে বলা হয়েছে, মো. এমাদুল এবং মো. ইসমাইল আকন (ভূমি ইসমাইল) ভুয়া জালজালিয়াতি কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি খাল দখল করেছে। তারা সেখানে নতুন করে বালি দিয়ে ভরাটের কাজ চালিয়ে প্লট তৈরি করে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।

পৌর এলাকার চিংগড়িয়ার গৌতম চন্দ্র হাওলাদারসহ ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাননি। ফলে দিন দিন ভূমিদস্যুরা দখল কাজে আরও উৎসাহ পাচ্ছে।

এদিকে খাল রক্ষার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একাধিকবার মানববন্ধন করেছে। তবুও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, “সরেজমিনে দেখেছি কৃষকদের দুর্ভোগের চিত্র। উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে।”

চিংগড়িয়া ও পশ্চিম বাদুরতলী এলাকার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন, “গুটি কয়েক মানুষের কারণে শতশত কৃষক পরিবারের সমস্যা হচ্ছে। এই ভূমিদস্যুরা সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দখল কার্য চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

অন্যদিকে, অবৈধ দখলকারী মো. এমাদুল ১০ নভেম্বর ২০২১ তারিখে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ ছয় কর্মকর্তাকে বিবাদী করে আদালতে মামলা (মামলা নং ১৬৯৫) করেন। ২০ মে ২০২৫ কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, বিবাদী পক্ষের বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, “এখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি দখল করে বালি ভরাটের কোনো সুযোগ নেই।”

১৪৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন