সর্বশেষ

মতামত

যুদ্ধবাজদের থামানো কেবল শান্তির জন্য নয়, বরং পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও জরুরি

লিটন আব্বাস
লিটন আব্বাস

বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুদ্ধ কেন হয় এবং এর পেছনে কাদের স্বার্থ থাকে, এই যুদ্ধ কেন এবং কাদের জন্য লাভ? যুদ্ধ কী আসলেই লাভ। নিশ্চয় নয়। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পর মানুষের সাথে মানুষের , দেশের সাথে দেশের, অঞ্চলের সাথে অঞ্চলের, মহাদেশের সাথে মহাদেশের দ্বন্দ্ব , সংঘাত, সম্প্রসারণনীতি, দখল, উন্মত্ততা, বর্বরতা, কর্তৃত্ব , আধিপত্য এবং সস্পদ, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা--- দিন-কে-দিন সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যুদ্ধ শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শনী নয়, বরং সম্পদ আহরন, লুটপাটেরও এক আকর্ষণীয় মুহূর্তঃ তেল, খনিজ বা উর্বর ভূমির দখল নেওয়া। নিজের দেশের আয়তন বাড়ানো বা কৌশলগত জায়গা দখল। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শের অমিল। আধিপত্য বিস্তার বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। আগের কোনো অন্যায়ের বদলা নেওয়া বা নিজের দেশকে বাঁচানো।

কিন্তু, যুদ্ধ মানেই যে কোন সাধারণ মানুষের মৃত্যু---নারী, পুরুষ, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু! লাখ-কোটি মানুষের গৃহহীন হওয়া। আর না খয়ে ঘুমোনোর সংখ্যা বাড়ানো। বিশ্বে এমনিতে, ক্ষূধা, দরিদ্রতা, অপিুষ্টিতে মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা দিনকে দিনকে বাড়ছেই।

যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো অস্ত্রের ব্যবসা। দখলদারিত্ব কায়েম থাকলে এবং যুদ্ধ চললে বড় দেশগুলোর অস্ত্র বিক্রি বাড়ে। সাধারণ মানুষের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি খোঁজে। সমৃদ্ধশালী আধিপত্যবাদীরা মুখে মানবতা, গণতন্ত্র সহ তো মন্ত্রতন্ত্র, কত নীতির কথা বলে ক্ষুধা, যন্ত্রণায় নিমগ্ন মানুষের মুখে সভ্যতার বাণী শুনিয়ে শুনিয়ে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। মুখে খাবারের পরিবর্তে বুলেট তুলে দিচ্ছে। এইসকল পরিস্থিতির জন্য বিশ্বের দু;শতাধিক দেশের মধ্যে সামান্য গুটিকয়েক সম্প্রসারণবাদী দেশ যারা সম্প্রসারণ চায়, দখল চায়, সম্পদ লুটতে চায়, তারা কোন একটা অহেতুক কারণের ওছিলায় অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে পৃথিবীজুড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে চলেছে যুগের পর যুগ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠিক তাই। এখন বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। এরজন্য দায়ী মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের একরোখা নীতি, সাথে তার দোসর বর্বর, দখলদার ইসরায়েল।

এই যে মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে যুদ্ধবাজ, ছিনতাইকারী প্রেসিডেন্ট, তেলসম্পদলুন্ঠকারী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরালের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হঠাৎ করে আক্রমণ করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি সহ দেশটির উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতাকে হত্যা করল। এর জন্য তাদের কোন অনুতপ্ততা নেই—বরং, দখল এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দিকে লোলুপ চোখ পড়ায় এখন তাদের কপাল পুড়তে শুরু করেছে।



কারণ, যুদ্ধ কোন অবস্থাতেই কেউই মূলত জেতে না। ক্ষতি হয় সবারই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ঃ যুদ্ধ কী, কেন, কার স্বার্থে এই যুদ্ধ বাঁধে--- এইকথা ভাবার সময় সাধারণ, শান্তিপ্রিয় মানুষের থাকে না। কারণ , তারা ঘুম থকে উঠে খাবার জোগাড়ের অন্বেষায় মাঠে, ময়দানে, রাস্তায় নামে। আবার পরিশান্ত দেহ ও শরীর নিয়ে ঘুমোতে যায়। ঘুম থকে উঠেই আবার লড়াই সংগ্রাম---এই হলো তাদের দুনিয়া; অথচ তারা এখনও ঠিকমত জানে না কেন তাদেরই মরতে হয়, কেনইবা মরছে রোজ যুদ্ধের কারণে।

পৃথিবীর সুখ শন্তি কেড়ে নিয়েছে গুটিকতেক দেশ। যারা নিজেদের অস্তিত্ব, আগ্রাসন, দখল, যুদ্ধবাজীনীতি এবং সম্পদ, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা এবং নিজেদেরকেই শ্রেষ্ঠত্ব মানা ও ভাবা নিয়েই আসলে এই যুদ্ধগুলো হয়।



একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন সভ্যতার বড়াই করি, ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের একক আধিপত্যবাদী নীতি মানবতাকে পদদলিত করছে। তাদের তথাকথিত 'শান্তি পরিকল্পনা' আসলে এক পৈশাচিক দখলদারিত্বের নীল নকশা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দায়ী । বিগত কয়েকদশক থেকেই এই মধ্যাপ্রাচ্যকে যুদ্ধময় সংঘাতে ঠেলে দেওয়ার মূর কারিগরই তারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় এবং চাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অবস্থানে জড়িয়েছে । এই যুদ্ধে সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপাচ্যজুড়ে এবং এর রেশ সারা পৃথিবীতে কম-বেশি পড়ছে। একমাসের বেশি ধরে চলা এই যুদ্ধ পৃথিবীর যে কোন সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

আলোচনায় আছে---ধুরন্ধর নেতানিয়াহু দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন, যা ট্রাম্পের আমলে পূর্ণ এবং পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । এছাড়া গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির জন্য তাদের এই দুষ্ট নীতিই দায়ী । তাদের কারণেই---সাধারণ মানুষের জীবন ও ঘরবাড়ি আজ তুচ্ছ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে গাজায় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে তীব্রতর করেছে । এক পসিংখ্যানে দেখা যায়, গাজা ও লেবানন যুদ্ধে নিহতের প্রায় ৭০% নারী ও শিশু, যা প্রমাণ করে এই যুদ্ধ কোনো সামরিক অভিযান নয়, বরং বেসামরিক নিধন। জাতিসংঘ ও স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৬০% থেকে ৭০% ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের 'আব্রাহাম অ্যাকর্ড' ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।



ট্রাম্পের শাসনামলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে বাধা না দেওয়া এবং উগ্রপন্থী সেটলারদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াতে বোঝা যায় মার্কিন-ইসরায়ের জুটির দখল উন্মত্ততা" বা আগ্রাসনের স্বরূপ ।



ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে হামলা করে এটাই প্রমাণ করলে, তারা সত্যি সত্যি যুদ্ধবাজ, সম্পদআহরণ ও লুটকারী, মুনাফাখোর এবং বিশ্বকে অশান্ত করার এক অভিনব আহাম্মক! এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। এই যুদ্ধের বোঝা সবাইকেই টানতে হবে।



নেতানিয়াহুর জন্য এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তার রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াই। যুদ্ধ থেমে গেলে তাকে দুর্নীতির মামলা এবং ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।

যুদ্ধ মানেই বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রের ব্যবহার। বড় বড় অস্ত্র নির্মাতা দেশ ও কোম্পানিগুলো এখান থেকে বিশাল মুনাফা অর্জন করে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণও একটি বড় কারণ।

চরমপন্থী বা সম্প্রসারণবাদীরা এই অস্থিরতাকে ব্যবহার করে অধিকৃত অঞ্চলের সীমানা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে।

অথচ, ইতিহাসের কী দারুণ পুনরাবৃত্তি দেখেন, নেতারা বা তাদের পরিবার যুদ্ধে যায় না! ইতিহাসের একটি পুরনো বিতর্ক , "যুদ্ধ ঘোষণা করেন বৃদ্ধরা, কিন্তু মরতে হয় যুবকদের।"

নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু যুদ্ধের সময় ইসরায়েলে না থেকে মিয়ামিতে (যুক্তরাষ্ট্র) অবস্থান করায় ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র সমালোচনা হয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিরা যখন রিজার্ভিস্ট হিসেবে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বিদেশে থাকাটা অনেককে ক্ষুব্ধ করেছে।

অপরদিকে, ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। আমেরিকার উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক পরিবারগুলোর সন্তানদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার হার ঐতিহাসিকভাবেই খুব কম।



সাধারণত জাতীয়তাবাদ বা ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ ঘরের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠানো হয়। কিন্তু যারা নীতিনির্ধারক, তারা নিরাপদ বাঙ্কারে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সিদ্ধান্ত নেন। তাদের পরিবারগুলো এই ধ্বংসযজ্ঞের আঁচ থেকে মুক্ত থাকে। এই ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কেবল একটি সংখ্যায় পরিণত হয়। মশা-মাছির মতো মরতে হয়।



__ নেতানিয়াহু বা ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন উত্তপ্ত ভাষণ দেন, তাদের নিজেদের সন্তানরা তখন নিরাপদ দেশে বিলাসবহুল জীবন কাটায়। নেতানিয়াহুর ছেলে যখন যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে মিয়ামির সমুদ্রসৈকতে সময় কাটান, তখন সাধারণ ঘরের সন্তানদের জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে কামানের খাদ্য বানানো হচ্ছে। এই বৈষম্যই প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ আসলে সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার।



ট্রাম্পের পরোক্ষ মদদে নেতানিয়াহু যে বসতি স্থাপন এবং বোমাবর্ষণের রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে হাজার হাজার বছরের পুরনো জনপদ আজ ধ্বংসস্তূপ। জেরুজালেমকে এককভাবে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা বা গোলান হাইটস দখলকে বৈধতা দেওয়া ছিল আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। সাধারণ মানুষের তিল তিল করে গড়া ঘরবাড়ি মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই "দখল উন্মত্ততা" কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি জাতির অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার চেষ্টা।

এই যুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রের ব্যবসা। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু যখন যুদ্ধের দামামা বাজান, তখন আমেরিকার বড় বড় অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন: লকহিড মার্টিন, রেথিওন) শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একদিকে বোমা মেরে ধ্বংস করা এবং অন্যদিকে সেই ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও পুনর্নিমাণের নামে নতুন ব্যবসা করা—এই চক্রটিই যুদ্ধকে জিইয়ে রাখছে। একে "রক্তের ব্যবসা" ছাড়া আর কি বলা যায়!



এই নেতারা ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে দখলদারিত্বকে একটি "পবিত্র মিশন" হিসেবে প্রচার করেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মিডিয়াগুলো দখলদারিত্বকে 'আত্মরক্ষা' হিসেবে চালিয়ে দেয়। একই সাথে 'পেগাসাস'-এর মতো সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে মুক্তমনা মানুষের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সত্যকে আড়াল করে নিরপরাধ মানুষকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে তুলে ধরা এই আধিপত্যবাদেরই অংশ। এভাবে এই পরাশক্তিগুলো ভেনেজুয়েলা, হাইতি,, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ভিয়েতনামকে পর্দুস্ত করেছিল তেমনি সারাপৃথিবীকেই ব্যস্তা রেখেছে এই শক্তিগুলো।বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে কোনো না কোনোভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জুড়ে গ্রেট বিটেনের যে আধিপত্য ছিল সেই প্রভাব আজ তলানীতে।এভাবে আধিপত্যবাদী পরাশক্তির দেশেগুলোরও প্রভাব একদিন এই দুনিয়াতে থাকবেনা; এটাও চিরন্তন সত্য। মাঝখানে শুধু মানুষের মুত্যু আর অনিরাপদ বাসস্থান আর কর্মসংস্থান।



আধুনিক যুদ্ধের মারণাস্ত্র কেবল বর্তমান প্রজন্মকে মারছে না, বরং আগামী কয়েক দশকের জন্য প্রকৃতিকে বিষাক্ত করে দিচ্ছে। ট্রাম্প জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে এবং নেতানিয়াহু নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে পৃথিবীকে এক চরম সংকটে ঠেলে দিচ্ছেন। যুদ্ধের এই কার্বন ফুটপ্রিন্ট আমাদের শিশুদের জন্য একটি মৃত পৃথিবী রেখে যাচ্ছে।

___জাতিসংঘ আজ একটি অকেজো কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভেটো ক্ষমতা যেকোনো শান্তি প্রচেষ্টাকে আঁতুড়ঘরেই মেরে ফেলছে।

এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আজ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো (Global South) একজোট হতে শুরু করেছে। এখন সময় এসেছে সাধারণ মানুষের এক শক্তিশালী নতুন বিশ্বজোট গড়ার, যা ডলারের আধিপত্য ভেঙে দেবে এবং মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে। নেতাদের ব্যক্তিগত জবাবদিহিতাসহ যুদ্ধের নির্দেশদাতা নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে। যুদ্ধবাজ দেশ ও তাদের মদদপুষ্ট কোম্পানিগুলোকে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করতে হবে। অস্ত্রের ব্যবসা নয়, মানুষের জীবনের দাম দিন! দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদ নিপাত যাক, বিশ্বজুড়ে শান্তি আসুক!

আধিপত্যবাদীদের রুখে না দাঁড়ানো যায়, তবে পৃথিবী সত্যিই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। শান্তিকামী মানুষের লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, লড়াই হোক অমানবিকতা ও শোষণের বিরুদ্ধে। বিশ্ববাসী একজোট হলে কোনো যুদ্ধবাজই নিরাপদ থাকতে পারবে না।

তাই, এই যুদ্ধবাজদের থামানো কেবল শান্তির জন্য নয়, বরং পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও জরুরি।





লেখক : সমাজকর্মী, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন