সর্বশেষ

সারাদেশ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান ক্যাব চট্টগ্রামের

হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম
হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম

বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জ্বালানি তেল নিয়ে লোকচুরি ঠেকাতে তেল সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের তাগিদ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের কারসাজির ফলে সরকার ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অনেক পেট্রোল পাম্পে “ডিজেল-অকটেন নাই” এমন সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এতে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে গাড়ির মালিক ও চালকদের পুরো দিন পার করতে হচ্ছে।

০২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমানসহ নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে আগুন সন্ত্রাসের সময় জ্বালানি তেলের অবৈধ বিপণন ও চুরির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এর ফলে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে খোলা তেল বিক্রির নামে বিভিন্ন স্থানে ড্রাম ও গুদামে তেল মজুদের প্রবণতা বেড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে। পাশাপাশি ভাউচারের মাধ্যমে তেল পরিবহন এবং বিভিন্ন পরিবহন থেকে পাইপ লাগিয়ে তেল চুরির ঘটনাও বেড়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও বিপণনে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে সরকার পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহের কথা জানালেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বন্দরে তেলের জাহাজ থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় তেলের সংকট রয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও বিভ্রান্তি বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, এমনকি ৫০-৬০ কিলোমিটার দূর থেকেও মানুষ শহরে এসে তেল পাচ্ছেন না।

এ অবস্থায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির মাধ্যমে কোন কোন পাম্পে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে—এমন তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। এতে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব তথ্য প্রচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তেল চুরি, সিন্ডিকেট ও মজুদদারী রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে। তেলের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করলে বিভ্রান্তি কমবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পাম্পে তেলের মজুদ ও সরবরাহের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জনগণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এছাড়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ জনগণকে জ্বালানি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণে গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ক্যাব সদস্য ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে নাগরিক নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন