গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপর্যয়ে বোরো ধান চাষীরা
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বোরো ধান চাষীরা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় অনেক জমিতে সেচ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে কৃষকরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তেলের অভাবে ধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকরা যাতে পর্যাপ্ত তেল পান তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এবং বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদার না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয় ঘটতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বেদগ্রাম এলাকার মিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা ড্রাম, বোতল ও বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ডিজেল পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় বসে রয়েছেন। অনেকেই তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন।
ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা জানাচ্ছেন, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না আসায় এখানে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকসহ সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, “প্রতিদিন আমার কমপক্ষে ৫ লিটার তেল দরকার। গত পাঁচ দিনে মাত্র ১ লিটার পেয়েছি। এতে তিন-চার দিন জমিতে সেচ দিতে পারিনি। আজ আবার ভোরে পাম্পে এসেছি, কিন্তু তেল পাইনি। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে, সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”
অন্য কৃষক শুহিন মোল্যা বলেন, “তেলের অভাবে কয়েকদিন ধরেই ধানের জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
ব্লক ম্যানেজার আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, “প্রতিদিন আমার ১৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে ঘোরাঘুরি করে মাত্র ২-৩ লিটার তেল পাই। এতে প্রয়োজনীয় সেচ কার্যক্রম ঠিক মতো করা সম্ভব হচ্ছে না। বোরো ধানে শীষ এসেছে, কিন্তু পানির অভাবে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
জেলার নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজুনুর রহমান লফিজ জানিয়েছেন, “আমার পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। যে পরিমাণ ডিজেল আসে, তাতেই কৃষকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পেলে বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, “জেলায় ডিজেলের সংকট এখনো তেমন নেই। চলতি বোরো মৌসুমে ৮২,৫৮৮ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এখন সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোন কৃষক যদি তেল না পান, তবে তারা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করবেন যে তেল প্রয়োজনমতো পৌঁছে গেছে।”
১২২ বার পড়া হয়েছে