রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত আরও ৬ শিশু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মোট ১০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৮ জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড়শত ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রোববার থেকে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য শিশু ওয়ার্ডের পাশে ছোট একটি কক্ষে ৬টি বেড স্থাপন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমনকি একজন শিশুকে মেঝেতে এবং আরও কয়েকজনকে কক্ষের বাইরে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনরা দ্রুত নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শনে দেখা গেছে, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একেকটি বেডে ২ থেকে ৩ জন শিশুকে একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। এতে রোগীর স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক মাকে দাঁড়িয়ে বা মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেছে।
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আসা আজমেরী বেগম জানান, একটি বেডে একাধিক শিশু রাখায় স্বজনদের কষ্ট করতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মাসুমা বেগমসহ অন্যান্য অভিভাবকরাও।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে চাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের ৫ মাস বয়সী আরেফিন, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আড়াই বছর বয়সী মুজাহিদ এবং নীলফামারীর ৯ মাস বয়সী সহিদ।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. খালিদ জানান, গত দুই বছর ধরে নিয়মিত হামের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ৫ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে। তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, এ পর্যন্ত ১৫ জন শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে ৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি (র্যাশ) দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে