ইন্দোনেশিয়ার টারনেটে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের টারনেট উপকূলের কাছে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কারণে আশপাশের দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। অনেক বাড়ি ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
টারনেটের ৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা বুদি নুরগিয়ান্তো বলেন, "আমি ঘরের ভিতরে ছিলাম, হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করে। কম্পন এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়। বাইরে বের হয়ে দেখি সবাই আতঙ্কিত, কেউ কেউ এমনকি গোসল শেষ না করেই ঘর থেকে বেরিয়েছে।"
অন্য এক বাসিন্দা সাইফুল জানান, কম্পন প্রথমে হালকা ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়ে যায়। "আমার ঘরটা খুব জোরে কাঁপতে থাকে, তখন আমরা সবাই দ্রুত বাইরে চলে যাই," তিনি বলেন।
মানাদো শহরের ফানলি নামের একজন চালক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়ি রাস্তার পাশে থামিয়েছিলেন যাতে গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে না যায়। মানাদোতে অবস্থানরত এক সাংবাদিকও জানান, কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল, তবে তিনি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এটি ৭.৮ মাত্রার হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল, পরে তা সংশোধন করে ৭.৪ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার নর্থ মালুকু প্রদেশের টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ০.৩ মিটারের কম উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে সর্বোচ্চ ০.২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত করতে পারে, তবে এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে