২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে বড় আঘাত: জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্প
বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কঠোর সামরিক আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯ টায় হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব। প্রয়োজনে তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বও নিহত হয়েছে।
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তারা অসাধারণ কাজ করেছে, আমরা তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।”
এ সময় তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে আবার খুলে যাবে। এছাড়া তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প নাসা-র ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং সংশ্লিষ্ট নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
এছাড়া তিনি তার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যার অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন এবং তাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হোতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি “সফল বিনিয়োগ”। তিনি আরও বলেন, “ইরানের মতো সরকারের হাতে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।”
প্রায় ১৯ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, দেশটি গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত।
তবে ইরানে চলমান সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। যদিও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে