মোংলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সেবা নিতে এসে মামলার আসামি হলেন রোগীর বাবা
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ২:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে মামলার আসামি হয়েছেন তোফায়েল হোসেন নামে এক অসহায় রোগীর বাবা ও ভাইসহ ৭ জন।
রোগীর পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ভোরে মোংলা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেনের ছেলে সুমন (২২) পারিবারিক অশান্তির কারণে বিষাক্ত কিছু পান করেন। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত কোনো চিকিৎসককে না পেয়ে রোগীর স্বজনরা ডাকাডাকি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এক পর্যায়ে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনুপম মজুমদার সেখানে এলেও তিনি রোগীর শারীরিক কোনো সেবা না দিয়ে চেয়ারে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এ অবস্থায় রোগীর পরিবার স্থানীয় প্রতিবেশী মোংলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিব মিয়া শান্ত এবং যুবদল কর্মী হাফিজুর রহমান মানিকের শরণাপন্ন হন। পরে তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে চিকিৎসকের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তারা চেয়ার ও টুল ছুড়ে মারেন বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় অনুপম মজুমদার বাদী হয়ে রোগীর বাবা তোফায়েল হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো মোংলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং রোগীদের সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয়রা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
রোগীর বাবা তোফায়েল হোসেন বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে আমার সন্তানকে নিয়ে গেলে কোনো চিকিৎসক পাইনি। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি, কিন্তু কোনো চিকিৎসক বা নার্স আসেনি। পরে একজন এলেও তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমি দিন আনি দিন খাই—চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো আমাকে ও আমার আরেক ছেলেকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহিন হাসান জুয়েল বলেন, “ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি। ওই রোগীর ওয়াশ করার মতো অবস্থা ছিল না। রোগীর স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে চিকিৎসকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার ছোড়া ও মারধর করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক নিজেই বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হাফিজুর রহমান মানিক নামে একজন বর্তমানে বাগেরহাট কারাগারে রয়েছেন।
১৩২ বার পড়া হয়েছে