যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের ভিড়, তবু কাটছে না সংকট
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক ভিড়ছে তেলবাহী জাহাজ। মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে গ্যাসওয়েলবাহী ‘পিভিটি সোলানা’।
এর আগে সোমবার মালদ্বীপের পতাকাবাহী ‘এমভি পল’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরের নৌসীমায় নোঙর করার কথা রয়েছে আরও কয়েকটি জাহাজ। এরপরও কাটছে না সংকট। জেলা প্রশাসন গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৪১ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে এবং ৯৮টি মামলা দায়ের করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৩টি জাহাজ থেকে এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি খালাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে ‘পিভিটি সোলানা’। এছাড়া মালদ্বীপের পতাকাবাহী ‘এমভি পল’ গ্যাসঅয়েল নিয়ে সোমবার বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে।
ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের জাহাজ বন্দরের নৌসীমায় নোঙর করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘সেন্না ৯’ নামের একটি জাহাজ সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকায় খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে আসা একটি জাহাজের তেল খালাস প্রক্রিয়া সোমবার শেষ হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রিফায়াত হামিম জানান, জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো বন্দরের নৌসীমায় আসার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত তেল খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৩টি জাহাজ তেল খালাস করে বন্দর ছেড়ে গেছে। আরও কয়েকটি জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিদিনই জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, তীব্র সংকটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে তেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪১ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে এবং ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ ঘটনায় ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম জানান, তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করে অবৈধভাবে তেল মজুত করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। বিপিসি আরও জানায়, অবৈধভাবে তেল মজুতের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে